গোপন নথিসমূহ ১ম খণ্ড (২০১-২৫০)

২০১

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিভিশন ১-এর নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার আইবিইবির ডিআইজি বরাবর আবেদন করেন যেন তাঁকে তাঁর বোন মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম, বোনাই শেখ নূরুল হক ও তাঁদের ছোটো ছোটো তিন সন্তানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়।

ঢাকা, ৬ই মার্চ ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি, আইবি, পূর্ববঙ্গ

ঢাকা

মাধ্যম: সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, তারিখ ৬ই মার্চ ১৯৫০।

জনাব,

আমি খুশি হব যদি আপনি আমাকে আমার আপন বোন মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম, বোনাই শেখ নূরুল হক এবং তাঁদের তিন সন্তানের সাথে দেখা করার অনুমতি প্রদান করেন।শুক্রবার সন্ধ্যায় সাক্ষাতের সময় মঞ্জুর করলে উত্তম হবে।

আমাকে উক্ত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করলে অনুগ্রহপূর্বক আমার বোনাই ঢাকা ইডেন বিল্ডিং পূর্ববঙ্গের ক্লার্ক, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল হিসেবে কর্মরত শেখ নূরুল হক, বিএকে অবহিত করে বাধিত করবেন।

আপনার একান্ত

শেখ মুজিবুর রহমান

নিরাপত্তা কারাবন্দি

ডিভিশন ১

কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

৬/৩/৫০

২০২

ঢাকাস্থ আইবিইবির একজন এসআই রিপোর্ট করেন যে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী ও শামসুল হকের সঙ্গে তাঁদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সাক্ষাতের সময়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। উচ্চ আদালতে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ হিসেবে একটি পিটিশন ফাইল করার বিষয়ে আইনজীবী তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ঢাকা, ৯ই মার্চ ১৯৫০

নিরাপত্তা কারাবন্দি মওলানা আবদুল হামিদ খান, শামসুল হক ও মুজিবুর রহমান যখন তাঁদের আইনজীবী মৌলভী আতাউর রহমানের সঙ্গে ৮/৩/৫০ তারিখে একজন একজন করে দেখা করছিলেন তখন আদিষ্ট হয়ে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

উচ্চ আদালতে হেবিয়াস কর্পাসের জন্যে একটি পিটিশন ফাইল করতে উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দিদের সঙ্গে আইনজীবীর আলোচনা হয়। তাঁদের অন্তরীণ হওয়ার কারণ উল্লেখপূর্বক যেসব প্রয়োজনীয় কাগজ রয়েছে সেসব আইবি অফিসারের মাধ্যমে তাঁকে পাঠাতে তিনি তাঁদের অনুরোধ করেন।

পেশকৃত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এসআই, আইবি

৯/৩/৫০

২০৩

নিজের পক্ষের উকিল অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানকে প্রেরণ করার জন্য আটক আদেশের কারণ ও প্রতিবাদের অনুলিপিসমূহ হস্তান্তর করতে ঢাকার আইবিইবির ডিআইজি বরাবর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান আবেদন করেন।

ঢাকা, ৯ই মার্চ ১৮৫০

বরাবর

ডিআইজি, আইবিইবি

মাধ্যম: সুপার ইনটেনডেন্ট, কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

তারিখ, ঢাকা, ৯ই মার্চ ১৯৫০

জনাব,

অনুগ্রহপূর্বক আমার পক্ষের উকিল ঢাকার সোয়ারিঘাটের অ্যাডভোকেট মৌলভী আতাউর রহমানকে যদি আমার অন্তরীণ আদেশের কারণ ও প্রতিবাদের অনুলিপিসমূহ হস্তান্তর করতেন তবে খুশি হতাম।

নং ৪৮৭/এসবি/তারিখ ১৪/৩/৫০

প্রেরিত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

আপনার বিশ্বস্ত

শেখ মুজিবুর রহমান

নিরাপত্তা কারাবন্দি

কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

২০৪

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব এই মর্মে একটি আদেশ জারি করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জেনে গভর্নর খুশি হয়েছেন আর তাই তাঁর আটকের সময় বর্ধিত করতে এই আদেশটি করা জরুরি।

ঢাকা, ১৬ই মার্চ ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র বিভাগ

বিশেষ শাখা

আদেশ

নং ৮৮১-এইচএস

তারিখ, ঢাকা ১৬ই মার্চ ১৯৫০

যেহেতু ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার টঙ্গিবাড়ি নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমান বলে পরিচিত এই ব্যক্তিটি

২৮শে জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখের আদেশ নং ১৪৭-এইচএস-এর অধীনে

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন

এবং যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয় বিবেচনা করে সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট যে, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে ও শৃঙ্খলায় ব্যত্যয় ঘটাবে এমন কোনো হানিকর কাজ থেকে তাঁকে বিরত রাখার লক্ষ্যে তাঁর কারাবরণ দীর্ঘায়িত করতে নিচের আদেশটি জারি করা জরুরি।

এখন, East Bengal Ordinances Temporary Enactment and Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৪৬ (Bengal Ordinance, ১৯৪৬-এর VI)-এর ১০ক ধারার উপধারা (১) ও (৪)-এর অনুচ্ছেদ (ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ নির্দেশ প্রদান করছে যে,

ক. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তিকে উল্লিখিত অধ্যাদেশের ১০খ ধারার বিধান সাপেক্ষে আটক রাখা হবে;

খ. এই অনুচ্ছেদের (ক) ধারার বিধান সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকবেন।

গ. এই আটকাবস্থায় উক্ত ব্যক্তি পূর্ববঙ্গ নিরাপত্তা কারাবন্দি বিধি ১৯৫০-এ বর্ণিত শর্তাবলির অধীন হবেন।

সরকারের নির্দেশক্রমে

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

ঢাকা ও ফরিদপুরের যথাক্রমে নিম্নোক্ত দুটি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে তলব করা হয়েছিল:-

  1. আইপিসি ১৪৭/৩২৫ ধারার অধীন এবং বিএসপিওর ৭(৩) ধারার অধীন ঢাকাস্থ কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯।
  2. আইপিসি ১৪৩/১৮৮ ধারার অধীন ১৮/৭/৪৮ তারিখের ফরিদপুর-গোপালগঞ্জ থানার মামলা নং ১১।

উক্ত ব্যক্তির ঢাকার মামলাটির বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ১৬/৩/৫০ তারিখে মুলতবি করা হয়েছে। ফরিদপুরের মামলাটির বিচার চার্জশিট পর্যন্ত শেষ হয়েছে এবং ঢাকার মামলায় তাঁর বিচারকার্য শেষ হলে এই মামলাটির বিচারও শুরু হবে।

২০৫

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব শেখ মুজিবুর রহমানের আটক আদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে যে আদেশ এসেছে তা তামিল করতে এবং যথাসময়ে তা সরকারকে অবহিত করতে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ১৬ই মার্চ ১৯৫০

গোপনীয়

অতি দ্রুত

বিশেষ দূতের মাধ্যমে

পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র বিভাগ

প্রেরক: পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব মৌলভী এম ফজলুল বারি

প্রাপক: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট

স্মারক নং: ৮৮০-এইচএস, তারিখ: ১৬ই মার্চ ১৯৫০, ঢাকা

বিষয়: বঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স VI)-এর ধারা ১০ক অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানের আটক বিষয়ে।

উক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে উল্লিখিত বিষয়ে একটি স্বাক্ষরিত আদেশ (প্রতিলিপি) এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হলো। উক্ত ব্যক্তির বিষয়ে আদেশটি তামিল করতে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং যথাসময়ে তা সরকারকে অবহিত করতে অপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • উক্ত ব্যক্তির আটক-আদেশ সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় পরবর্তী চিঠিতে জানানো হবে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম. এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

নং-৮৮০/১(৪)/১-এইচএস

অনুলিপি, আদেশের একটি অনুলিপি, অবহিত করার জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট পাঠানো হলো:-

  • কারাগারের মহাপরিদর্শক, পূর্ববঙ্গ
  • পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ
  • জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা
  • উপপরিচালক, গোয়েন্দা ব্যুরো, পাকিস্তান সরকার, ৮ কুমারটুল লেন, ঢাকা

(প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কারারক্ষীকে সংবাদ প্রেরণের স্বার্থে আটক আদেশের কারণসমূহ সরকারকে তৎক্ষণাৎ সরবরাহ করতে হবে)

ঢাকা,

১৬ই মার্চ, ১৯৫০

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

পার্শ্বটীকা: চিঠির সাথে প্রেরিত কাগজপত্রের অনুলিপিগুলো সহ একটি অনুলিপি অবহিত করার লক্ষ্যে ঢাকা ডিআইবির অতিরিক্ত এসপিকে প্রেরিত, ডিএস৩, এসএস৩, আইবি

২০৬

ফরিদপুরস্থ ডিআইবির এসপি ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি ম্যামো লেখেন যাতে তিনি তাঁর জেলার সব নিরাপত্তা কারাবন্দিদের নিয়ে লেখা রিভিউ রিপোর্টের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করেন। কারাবন্দিদের নিয়ে তাঁর মন্তব্যও এতে যুক্ত ছিল।

ফরিদপুর, ১৭ই মার্চ ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ১৭ই মার্চ ১৯৫০

নং ১৩৬৯/১৩-৪১

গোপনীয়

বরাবর

জনাব এস.জে. কবির

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

ফরিদপুর

সূত্র: বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশে আটক নিরাপত্তা কারাবন্দিদের নিয়ে ত্রৈমাসিক রিভিউ সংক্রান্ত পূর্ববঙ্গ সরকারের ৯/৮/৪৯ তারিখের স্বারাষ্ট্র বিভাগ নং ২০৮৮ এইচএস।

আমি এতদ্‌সঙ্গে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সব নিরাপত্তা কারাবন্দিদের নিয়ে লেখা রিভিউ রিপোর্টের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করলাম। কারাবন্দিদের নিয়ে আমার মন্তব্যও এতে যুক্ত আছে। অনুগ্রহপূর্বক প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আপনার মতামত লিখে দেবেন। উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দিদের রেকর্ডগুলো আপনাকে প্রদর্শন করতে আমি আমার ডিআইওকে পাঠাচ্ছি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

ম্যামো নং ১৩৬৯/১(৩)/১৩-৪১, তারিখ ১৭/৩/৫০

রিভিউ রিপোর্টের অনুলিপিসহ একটি অনুলিপি নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের কাছে প্রেরিত হলো:-

  1. জনাব এম. আহমদ, এম.এ. পিপিএস, পুলিশের বিশেষ সুপার ইন্টেনডেন্ট, আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা (কেবল এমজেপি অংশ)
  2. জনাব এস.কে. গুপ্ত, পুলিশের বিশেষ সুপার ইন্টেনডেন্ট, আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা (কেবল সিপি অংশ)
  3. জনাব ম. ইউসুফ, পুলিশের বিশেষ সুপার ইন্টেনডেন্ট, আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা (কেবল মুসলিম দল)

তথ্যের জন্য আইবির ২৮/২/৫০ তারিখের ম্যামো নং ৩৭৫৪(১৭)/৩৫৭-৫০(সেক)এস.-এর বরাত দিন।

ব্রজ গোপাল ভট্টাচার্য্যজির (সিপি, ফরিদপুরের মাদারীপুর শহর ও বাকেরগঞ্জ জেলার গৌরনদী থানার বকল নিবাসী অশীত রঞ্জনের পুত্র) মামলাটি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। তাঁর বিষয়ে রিভিউ রিপোর্ট বাকেরগঞ্জের ডিএমের মন্তব্য সহকারে সরাসরি আইবিকে প্রেরণের জন্য বাকেরগঞ্জের ডিআইবির সুপার ইনটেনডেন্টকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৮/৩/৫০

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

ডিআইবি, ফরিদপুর

২০৭

ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি ২০/৩/১৯৫০ তারিখের শেখ হাবিবুর রহমান কর্তৃক লিখিত একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি প্রেরণ করে বিবৃত করেন যে, ২৩/৩/১৯৫০ তারিখে একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে প্রার্থিত সাক্ষাৎকারটির অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

ঢাকা, ২০শে মার্চ ১৯৫০

গোপনীয়

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭, ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা, তারিখ ২০/৩/৫০

নং ৫৫২০/৬০৬-৪৮ পিএফ (সেক)

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ঢাকা

শেখ হাবিবুর রহমান কর্তৃক লিখিত ২০/৩/৫০ তারিখের একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হলো। আমার বক্তব্য হলো, প্রার্থিত সাক্ষাৎকারটি ২৩/৩/৫০ তারিখে বেলা ৯.৩০-এ একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে সংঘটনের অনুমতি দেওয়া যায়। সাক্ষাতে ইচ্ছুক পক্ষকে সেভাবে অবহিত করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষ থেকে

আইবির এসএস ১-এর পক্ষে ডিএস ৫

গোয়েন্দা বিভাগ

পার্শ্বটীকা: আরএসআইকে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২১/৩/৫০।

বরাবর,

ডিআইজি, আইবি

ঢাকা

জনাব,

নিবেদন এই যে, আমি আমার আমার ভাইপো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আজ বেলা ৪.৩০-এ সাক্ষাৎ করতে চাই। সাথে আমার ভাইঝি আছিয়া বেগম, তাঁর সন্তান এবং আমার ভাইপো আনোয়ারুল হক থাকবে।

যথাবিহিত শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

শেখ হাবিবুর রহমান

২০/৩/৫০

পার্শ্বটীকা: একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে ২৩/৩/৫০ তারিখ সকাল ৯.৩০-এ সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হলো। আবেদনকারী পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।জেলে জানিয়ে দেওয়া হোক ও সে সময় একজন অফিসারকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হোক। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২০/৩

২০৯

জিয়াউদ্দীন আহমেদ ২২/৩/১৯৫০ তারিখে ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজিকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেন যেন তাঁর পরিবারের ৫জন সদস্যসহ তাঁকে তাঁর কাজিন শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ২৩/৩/১৯৫০ তারিখে একটি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়। ২০/৩/১৯৫০ তারিখের শেখ হাবিবুর রহমানের পিটিশনকেও নির্দেশ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে বন্দির সাথে কথা বলাও তাঁর উদ্দেশ্য।

ঢাকা, ২২শে মার্চ, ১৯৫০

বরাবর,

উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ

আইবি, ঢাকা

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, নিম্নে প্রদত্ত আমার পরিবারের ৫(পাঁচ)জন সদস্যসহ ২৩শে মার্চ ১৯৫০ তারিখে সকাল ৯.৩০-এ আমার কাজিন শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করতে চাই। আমার কাজিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি হিসেবে আছে।

পুনশ্চ আমি আমি অনুরোধ করছি যেন আপনি ২০/৩/৫০ তারিখের শেখ হাবিবুর রহমানের পিটিশনটি নির্দেশ করেন। তার সাথে আমার পিটিশনটিও যুক্ত। এই পিটিশন অনুযায়ী অনুমতির আদেশ প্রদান করতে পারেন।

পরিবারের সদস্যবর্গের নাম:-

  • জবেদাতুন নেছা
  • হুসনে আরা বেগম
  • মাসুদ
  • রিনা
  • মমিনুল হক

বিনীত নিবেদক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

এ.কে. জিয়াউদ্দীন আহমদ

৮/৩ রজনী বোস লেন

ঢাকা

২২/৩/৫০

পার্শ্বটীকা: একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে আগামী কাল ২৩/২(৩)/৫০ তারিখ সকাল ৯.৩০-এ সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। শেখ হাবিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাতের সময়ে যে অফিসার থাকবেন তিনি একইসাথে উভয় পক্ষের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২২/৩

গোপনীয়

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭ ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা

নং ৫৬৭০৬০৬-৪৮(সেক) তারিখ ২২/৩/৫০

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট, কেন্দ্রীয় কারাগার

ঢাকা

এ.কে. জিয়াউদ্দীন আহমেদ কর্তৃক ২২/৩/৫০ তারিখে প্রেরিত আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে আমার নিবেদন হলো, একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে ২৩/৩/৫০ তারিখে সকাল ৯.৩০-এ প্রার্থীত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

আবেদনকারী দলটিকে সেভাবে অবহিত করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২২/৩

গোয়েন্দা বিভাগের

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষ থেকে

আইবির এসএস১-এর পক্ষে ডিএস৫

জোবেদাতুন নেছা ও আরও তিনজন ছোটো ছোটো বাচ্চার সাথে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ২৩/৩/৫০ তারিখের সকাল ৯.৩০-এ অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমি উপস্থিত ছিলাম। পরিবারের বিভিন্ন বিষয় ছিল তাঁদের মধ্যকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আপত্তিকর কোনো কিছু তাঁরা আলোচনা করেননি।

অবগতির জন্য এটি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

আইবিইবি, ঢাকা

২৩/৩/৫০

ডিএস৩

অনুগ্রহপূর্বক ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন। সংযোজিত কাগজগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ফাইলটি এখন সক্রিয় আছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৯/৩

২১১

আইবিইবির একজন এসআই ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস৩-কে রিপোর্ট করেন যে, ২৮/৩/১৯৫০ তারিখে তিনি সচিবালয়ে ছিলেন এবং তখন নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী ও শামসুল হককে আটকের কারণগুলো প্রেরণ করতে স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগের নিরাপত্তা বিভাগের একজন সহকারী তাঁকে (এসআই) অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ২৮শে মার্চ ১৯৫০

ডিএস৩

জনাব,

আমি আজ সচিবালয়ে গিয়েছিলাম। তখন স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগের নিরাপত্তা শাখার সহকারী বদরুল আলম মালিক নিম্নোক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দিদের আটকের কারণগুলো যত শীঘ্র সম্ভব প্রেরণ করতে আমাকে অনুরোধ করেন।

  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মৌলভী শামসুল হক, এমএলএ

তারিখসহ স্বাক্ষর/- মু. মাসদার হোসাইন

এসআই, আইবি, ২৮/৩/৫০

অফিস

অনুগ্রহপূর্বক অনুলিপিগুলো সংশ্লিষ্ট ফাইলে রাখুন। শীঘ্রই প্রস্তুত করার জন্য এইচএসকে অনুরোধ করেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কে.এ. মুকতাদির

২৮/৩

পার্শ্বটীকা: অফিস, অনুগ্রহপূর্বক অনুলিপিগুলো সংশ্লিষ্ট ফাইলে রাখুন। শীঘ্রই প্রস্তুত করার জন্য এইচএসকে অনুরোধ করেন। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৮/৩/৫০।

২১৩

ঢাকাস্থ ডিআইবির অতিরিক্ত এসপি আইবিইবির এসএসকে একটি ম্যামো পাঠান যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, আইপিসির ১৪৭/৩২৫ নং ধারা এবং বিএসপিওর ৭(৩) নং ধারা মোতাবেক শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্য ৫জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯-এর জন্য আইপিসির ১৪৭/৩২৩ ধারা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত চার্জশিট ৯/১/১৯৫০ তারিখে দাখিল করা হয়েছে। বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশও সেখানে রিপোর্ট করা হয়েছে।

ঢাকা, ১লা এপ্রিল ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ, ঢাকা

তারিখ, ১লা এপ্রিল/৫০

নং ২৯৪৬/আর২৩৬৮/১০০-৪৯

গোপনীয়

অতি দ্রুত

বরাবর,

খান সাহিব ম. ইউসুফ

এসএস, আইবিইবি, ঢাকা

সূত্র: আইবি নং ৫৮২৩(২)/৬০৬-৪৮ পিএফ (জে), তারিখ ২৪/৩/৫০

আইপিসির ১৪৭/৩২৫ নং ধারা এবং বিএসপিওর ৭(৩) নং ধারা মোতাবেক শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্য ৫জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯-এর জন্য আইপিসির ১৪৭/৩২৩ ধারা অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত চার্জশিট ৯/১/১৯৫০ তারিখে দাখিল করা হয়েছে। বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নলিখিত আদেশগুলো পাশ করেছেন-

“৬জন আসামীর জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে যাদের কয়েকজন নিরাপত্তা কারাবন্দি। আইপিসির ১৪৭/২২৩ ধারা অনুযায়ী চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলাটি জামিনযোগ্য। আসামীদের মধ্যে যারা নিরাপত্তা কারাবন্দি তাদের নামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বেইল পিটিশন সম্পর্কে সিআইকে রিপোর্ট করতে দিন। সিআইএস রিপোর্ট পেলে জামিনের আদেশ মঞ্জুর করব আমি। রিপার্টের জন্য ১১/১/৫০ তারিখ পর্যন্ত।

পরবর্তীতে শুনানির মাধ্যমে সিআই (আদালত) উক্ত ৬জন আসামীর প্রতিজনের ৫০০০/- রুপি করে জামিন মঞ্জুর করেন এবং প্রতিজনের ক্ষেত্রে দুজন স্থানীয় জামিনদারের প্রতিজনের জন্য ২৫০০/- রুপি করে নির্ধারণ করেন। ৬জন আসামীর মধ্যে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ নিরাপত্তা কারাবন্দি:-

  • আবদুল হামিদ খান (ভাসানী)
  • মৌলভী শামসুল হক
  • শেখ মুজিবুর রহমান

(২৫/১/৫০) তারিখ পর্যন্ত।”

পুনশ্চ ১৮/৩/৫০ তারিখে বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত মামলাটি ৩০/৩/৫০ তারিখ পর্যন্ত মুলতবি রাখেন। সাথে নিচের মন্তব্যগুলো করেন-

“পিপি ও সিআইকে (আদালত) জানিয়ে দিন যে, বিচারকার্যটি ৩০/৩/৫০ তারিখে শেষ করতে হবে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তবে তা ঐ দিন উপস্থাপন করতে হবে।

আমার আদালতের সামনে ৩০/৩/৫০ তারিখ সকাল ১১টায় যে কোনোভাবে উপস্থিত থাকতে অবশিষ্ট সব পি.ডব্লিউ.কে তলব করুন।

উপরে উল্লিখিত আসামী।”

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলা যেমন আইপিসি ১৪৩/১৮৮ ধারা অনুযায়ী ১৮/৭/৪৯ তারিখে দায়ের করা গোপালগঞ্জ থানার মামলা নং ১১-এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। উভয় মামলাই জামিনযোগ্য। সুতরাং আটকাদেশ শেষ হওয়ার পরে উক্ত ব্যক্তিকে আটকে রাখা যায় না। এই অফিসে প্রেরিত ৩০/৩/৫০ তারিখের ত্রৈমাসিক রিভিউ নং ২৮৩৯ অনুযায়ী পরবর্তী ৩ মাসের জন্য তাঁকে আটক রাখা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১/৪

পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ঢাকা

২১৪

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি ঢাকার স্বরাষ্ট্র (রাজনৈতিক) বিভাগের পূর্ববঙ্গ সরকারের সচিবকে একটি গোপন ম্যামো পাঠান যার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানকে অন্তরীণ করার কারণসমূহের একটি খসড়া আসামী সম্পর্কে উক্ত জনকে প্রদান করার জন্য সংযুক্ত করা হয়। উক্ত কারণসমূহের মধ্যে ছাত্র ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি, কিছু সরকার বিরোধী ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে ক্ষতিকর ও সংহতিনাশক প্রচারণা চালানো এবং পূর্ববঙ্গ সরকারের নামে বদনাম করা প্রভৃতি অভিযোগে সরকার তাঁকে অভিযুক্ত করে।

ঢাকা, ৩রা এপ্রিল ১৯৫০

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭ ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা, তারিখ ৩/৪/৫০

নং ৬৫১৯/৬০৬-৪৮পিএফ

গোপনীয়

বরাবর,

সচিব, পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র (রাজনৈতিক) বিভাগ, ঢাকা

মার্জিনে উল্লিখিত নিরাপত্তা কারাবন্দি যিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন তাঁকে অন্তরীণ করার কারণসমূহের একটি খসড়ার তিনটি অনুলিপি তাঁকে প্রেরণ করার নিমিত্তে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এতদ্‌সঙ্গে আমি সংযুক্ত করলাম।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

(এইচ রহমান)-এর পক্ষে

পুলিশের মহাপরিদর্শক

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৩১/৩

গোয়েন্দা বিভাগ

পার্শ্বটীকা: ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমান

East Bengal Ordinances Temporary Enactment and Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারা অনুযায়ী অন্তরীণ হওয়ার কারণসমূহ সম্পর্কিত যোগাযোগ

East Bengal Ordinances Temporary Enactment and Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারা অনুযায়ী ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র এবং ১৫০ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়ান ঢাকা নিবাসী আপনি মৌলভী শেখ মুজিবুর রহমান উপর্যুক্ত অধ্যাদেশের ১০ক ধারার উপধারা (১) ও উপধারা (৪)-এর ক্লজ নং (ক) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত ২৮শে জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখের আদেশ নং ১৪৭ এইচএস অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন এবং আপনাকে অবহিত করা হচ্ছে যে, নিম্নলিখিত কারণে আপনাকে আটক রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে:-

  • ঢাকা, ফরিদপুরসহ পূর্ববঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায় আপনি একটি গোপন সংস্থার সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও আছেন যে সংস্থাটির উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারকে (পূর্ববঙ্গ সরকার) উৎখাত করা। ১৯৪৭ (দেশবিভাগের পরে), ১৯৪৮ ও ১৯৪৯ সালে আপনি ঢাকা, ফরিদপুর, পাবনা ও বাকেরগঞ্জ জেলায় অহিতকর কিছু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে পূর্ববঙ্গ সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করাই ছিল এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, ১৯৪৮ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে এবং ১৯৪৯ তারিখের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে কিছু সরকার বিরোধী ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে আপনি ঢাকা শহর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর শহর, নরসিংদী ও অন্য এলাকার ছাত্র ও মুসলিম জনতার মধ্যে ক্ষতিকর ও সংহতিনাশক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং পূর্ববঙ্গে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে তাদেরকে ইন্ধন যুগিয়েছেন। কিছু বিভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মানুষের অনুমাননির্ভর কথা বলে পূর্ববঙ্গের সরকারের নামে বদনাম করেছেন আপনি। উল্লিখিত এসব বিষয়ের অতিরিক্ত ঘটনা ও বিশেষ কিছু … (পৃষ্ঠা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আসল নথিতে নেই)

২১৬

নিরাপত্তা কারাবন্দি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বোন মোছাম্মত আছিয়া বেগম ও আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর দরখাস্ত করেন। শেখ নূরুল হককে বিষয়টি অবহিত করার জন্যও তিনি তাঁর দরখাস্তে অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ৫ই এপ্রিল ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি, আইবিইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

মাধ্যম: সুপার ইনটেনডেন্ট, কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

তারিখ ৫/৪/৫০

জনাব, 

অনুগ্রহপূর্বক আমাকে আমার বোন মোছাম্মত আছিয়া বেগম, বোনাই শেখ নূরুল হক, তাঁদের ছোটো তিনটি সন্তান এবং আমার ফার্স্ট কাজিন চুন্নু মিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি প্রদান করলে আনন্দিত হব।

অতএব বিনীত নিবেদন এই যে, আপনি যদি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করেন তবে ২৫ কামিনী ভূষণ রুদ্র রোড, চক বাজার, ঢাকা অথবা এ.জি.ই.বি. অফিস, ইডেন বিল্ডিং ঢাকা দুটো ঠিকানার একটিতে জনাব শেখ নূরুল হককে অবহিত করে দিবেন।

আপনার বিশ্বস্ত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- শেখ মুজিবুর রহমান

নিরাপত্তা কারাবন্দি

বিভাগ ‘ই’

প্রেরিত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

২১৭

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপনীয় মেমো প্রেরণ করেন যাতে তিনি বঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৪৬-এর ১০গ ধারা মোতাবেক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে একটি বার্তা প্রেরণের জন্য আদিষ্ট হন। একই ব্যক্তির বিষয়ে তা সরবরাহ করতে ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকারকে রিপোর্ট করতে তিনি অনুরুদ্ধ হন।

ঢাকা, ৬ই এপ্রিল ১৯৫০

বিশেষ দূতের মাধ্যমে

গোপনীয়

দ্রুততার সাথে

পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র বিভাগ

বিশেষ শাখা

প্রেরক: মৌলভী এম ফজলুল বারি, সহকারী সচিব, পূর্ববঙ্গ সরকার

প্রাপক: সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

স্মারক নং: ১০৭৫ এইচ.এস., তারিখ, ঢাকা ৬ই এপ্রিল ১৯৫০

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারা মোতাবেক নিম্নস্বাক্ষরকারী ব্যক্তি এতদ্‌সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে একটি বার্তা (অনুলিপি) প্রেরণের জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বার্তাটি সরবরাহ করতে এবং তদ্‌পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে তা সরকারকে অবহিত করতে আপনাকে যেন অনুরোধ করা হয় সে জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারাবন্দির কোনো প্রতিবাদ থাকলে তা শীঘ্রই সরকার বরাবর পাঠিয়ে দিতে আপনাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

নং ১০৭৫/১(৪)/১-এইচ.এস.

অবগতির জন্য সংযুক্তির অনুলিপি সহ একটি অনুলিপি নিম্নোক্তজনের কাছে প্রেরিত হয়েছে

  1. মহাকারাপরিদর্শক, পূর্ববঙ্গ
  2. পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা
  4. উপপরিচালক, গোয়েন্দা বিভাগ, পাকিস্তান সরকার, ৮, কুমারটুলি লেন, ঢাকা

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

ঢাকা,

৬ই এপ্রিল, ১৯৫০

গোপনীয় নং ৯৮৮২/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ২০/৪/৫০

অবগতির জন্য সংযুক্তির অনুলিপিসহ একটি অনুলিপি ঢাকাস্থ ডিআইবির অতিরিক্ত এস.পি.র কাছে প্রেরিত হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৫/৪

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (Bengal Ordinance, ১৯৪৬-এর VI)-এর ১০গ ধারার অনুযায়ী কারাগারে আটকে রাখার কারণসমূহ সম্বলিত যোগাযোগ

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারার অনুযায়ী ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র এবং ১৫০ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়ান ঢাকা নিবাসী আপনি মৌলভী শেখ মুজিবুর রহমান উপর্যুক্ত অধ্যাদেশের ১০ক ধারার উপধারা (১) ও উপধারা (৪)-এর ক্লজ নং (ক) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত ১৬ই মার্চ ১৯৫০ তারিখের আদেশ নং ৮৮১-এইচএস অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন এবং আপনাকে অবহিত করা হচ্ছে যে, নিম্নলিখিত কারণে আপনাকে আটক রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে:-

  • ঢাকা, ফরিদপুরসহ পূর্ববঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায় আপনি এমন একটি গোপন সংস্থার সাথে বেআইনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও আছেন যার উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারকে (পূর্ববঙ্গ সরকার) উৎখাত করা। ১৯৪৭ (দেশভাগের পরে), ১৯৪৮ ও ১৯৪৯ সালে আপনি ঢাকা, ফরিদপুর, পাবনা ও বাকেরগঞ্জ জেলায় অহিতকর কিছু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে পূর্ববঙ্গ সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করাই ছিল এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহ, ১৯৪৮ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে এবং ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে কিছু সরকার বিরোধী ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে আপনি ঢাকা শহর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর শহর, নরসিংদী ও অন্য এলাকার ছাত্র ও মুসলিম জনতার মধ্যে ক্ষতিকর ও সংহতিনাশক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং পূর্ববঙ্গে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে তাদেরকে ইন্ধন যুগিয়েছেন। কিছু বিভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মানুষের অনুমাননির্ভর কথা বলে পূর্ববঙ্গের সরকারের নামে বদনাম করেছেন আপনি। উল্লিখিত এসব বিষয়ের অতিরিক্ত ঘটনা ও বিশেষ কিছু জননিরাপত্তার বিরুদ্ধে যাবে।
  • উপর্যুক্ত সমস্ত কর্মকাণ্ড এই প্রদেশের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরূপ।

আপনাকে আরও অবগত করা হচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধে করা কারাবরণের আদেশের প্রতিবাদ করে সরকারকে লেখার অধিকার আপনার রয়েছে এবং সে রকম করতে যদি আপনি ইচ্ছে করেন তবে নিম্নে স্বাক্ষরকারী অফিসারের কাছে বর্তমানে আপনি যেখানে অন্তরীণ রয়েছেন অর্থাৎ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিবাদ লিখে প্রেরণ করতে পারেন।

সরকারের আদেশে

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

স্বরাষ্ট্র (রাজনৈতিক) বিভাগ

২১৮

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস৩ ও এসএস৩ একটি ম্যামোর মাধ্যমে অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানকে অবহিত করেন যে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে তাঁরা তাঁর কাছে সরকারি আদেশ, আটকের কারণ ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিবাদের অনুলিপিগুলো প্রেরণ করেন।

ঢাকা, ৬ই এপ্রিল ১৯৫০

নং ৭০৭৬/৬০৬-৪৮ পি.এফ./তারিখ ৮/৪/৫০

বরাবর,

জনাব আতাউর রহমান

অ্যাডভোকেট, সোয়ারিঘাট, ঢাকা

জনাব,

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি মৌলভী শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে এতদ্‌সঙ্গে নিম্নোক্ত নথিসমূহের অনুলিপি আপনার নিকট প্রেরিত হলো:

  • সরকারি আদেশ নং ১৪৭-এইচএস, তারিখ ২৮/১/৫০
  • ১৯৪৯ সালের ইবি অ্যাক্ট নং১-এর অধীনে আটকের কারণ বর্ণনাসংক্রান্ত যোগাযোগ
  • আটকের কারণগুলোর ব্যাপারে উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দির প্রতিবাদ

আপনার বিশ্বস্ত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/৪

আইবির এসএস৩-এর পক্ষে ডিএস৩

অবহিতকরণের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের কাছে তাঁর ১৪/৩/৫০ তারিখের ম্যামো নং ৪৮৭/এসবি-র বরাতে একটি অনুলিপি প্রেরিত হয়েছে। উপরের চিঠির বিষয়ে নিরাপত্তা কারাবন্দি পি৪৭৭-কে অবহিত করতে তিনি অনুরুদ্ধ হন।

অবহিতকরণের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের কাছে তাঁর ১৪/৩/৫০ তারিখের ম্যামো নং ৪৮৭/এসবি-র বরাতে একটি অনুলিপি প্রেরিত হয়েছে। উপরের চিঠির বিষয়ে নিরাপত্তা কারাবন্দি পি৪৭৭-কে অবহিত করতে তিনি অনুরুদ্ধ হন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/৪

আইবির এসএস৩-এর পক্ষে ডিএস৩

২১৯

১৬/৯/১৯৪৯ তারিখে ঢাকার তাজ মহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত ইপিএমএসএলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় খুলনা জেলার যেসব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের সংগৃহীত নামের তালিকার বিষয়ে ডিআইবি খুলনার একজন অফিসার খুলনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগকে রিপোর্ট করেন। বরাবরের মতোই রিপোর্টটি ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপিকে প্রেরণ করা হয়।

খুলনা, ১৮ই এপ্রিল ১৯৫০

খুলনার ডিআইবি অফিসের রিপোর্টের অনুলিপি

১৬/৯/১৯৪৯ তারিখে ঢাকার তাজ মহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত ইপিএমএসএলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় খুলনা জেলার যেসব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের নাম তদন্তের সাপেক্ষে আমি সংগ্রহ করেছিলাম। বৃত্তান্তসহ তাঁদের নাম নিম্নরূপ:

  1. যশোরের মির্জাপুর ও খুলনা শহরের বাসিন্দা খন্দকার ওয়াদুদের পুত্র খন্দকার আবদুল হাফিজ।
  2. খুলনার রামপালের কুমলাই নিবাসী তাহসিরউদ্দীনের পুত্র আবদুল হামিদ
  3. যশোরের কুমারিয়া ও খুলনা শহরের অধিবাসী মো. মোবারকের পুত্র এ.কে. চান্দ মিয়া।
  4. খুলনার বাগেরহাটের হরিণখানা নিবাসী কাসিম সাহেবের পুত্র আমজাদ আলী ওরফে গোরাই
  5. খুলনা থানার অধীন বেলফুলিয়া নিবাসী জনাব বাহাদুর খান সাহেবের পুত্র জাহাঙ্গীর খান
  6. খুলনার মোল্লাহাটের ঘোষগাতির মো. দলিলউদ্দীন মোল্লার পুত্র রুহুল আমিন
  7. খুলনা থানার বেলফুলিয়া নিবাসী জনাব ইসমাইল হুসাইনের পুত্র এস.এম. আমজাদ হুসাইন
  8. খুলনা শহরের বানিয়াখামার নিবাসী মোহাম্মদ আলী শেখ
  9. বরিশালের পিরোজপুরের পট্টসি ও খুলনার বাগেরহাট শহর নিবাসী এল. শেখ কাসিমের পুত্র আবুল মনসুর আহমদ
  10. খুলনার দৌলতপুরের ছোটেবয়রা নিবাসী আফতাবউদ্দীনের পুত্র মোমিনউদ্দীন আহমদ
  11. খুলনার সাতক্ষীরা শহর নিবাসী আবদুল ওয়াহেদ সিদ্দিকের পুত্র আনোয়ার হুসাইন

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

খুলনা, ১৭/১৮ই এপ্রিল ৫০

নং ২৪০৪/আর২২৫৭-২-৩৮/৩৯-৫৯

গোপনীয়

আপনার ম্যামোর রেফারেন্সে যেরূপ অবগত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল সেরূপ অবগত করার স্বার্থে ১৪/৯/৪৯ তারিখের তাঁর নং ১৮৭২৪-এর বরাত দিয়ে ঢাকাস্থ আইবির বিশেষ পুলিশ সুপার ইনটেনডেন্ট খান সাহিব ম. ইউসুফকে অনুলিপি প্রেরিত।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট, ডিআইবি

খুলনা, ১৮/৪/৫০

২২০

চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদ ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর এই মর্মে আবেদন করেন যে, তিনি তাঁর নিকট আত্মীয় শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ২০/৪/১৯৫০ তারিখে দেখা করতে চান। তাঁর (আইবির ডিআইজি) অফিসের কাউকে কেন্দ্রীয় জেল গেটে পাঠিয়ে দিতেও তিনি অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ১৯শে এপ্রিল ১৯৫০

বরাবর,

আইবির ডিআইজি, ওয়াইজ ঘাট, ঢাকা

তারিখ, ঢাকা, ১৯শে এপ্রিল, ১৯৫০

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আমার নিকট আত্মীয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আগামী কাল সকাল ১০টায় দেখা করতে চাই। উক্ত সময়ে আমি কেন্দ্রীয় জেল গেটে থাকব। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আপনার কাউকে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

অনুগ্রহপূর্বক আমার অনুরোধটি রাখতে আপনি সচেষ্ট হবেন তেমনটাই আশা করছি।

যথাবিহিত শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদ

৫৫ ইমামগঞ্জ লেন, ঢাকা

২২১

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট একটি গোপন ম্যামোর মাধ্যমে ঢাকাস্থ ইডেন বিল্ডিঙের পূর্ববঙ্গ এজি অফিসের শেখ নূরুল হককে অবহিত করেন যে, মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম, চুন্নু মিয়া ও তিন ছোটো ছেলেমেয়েসহ ২২/৪/১৯৫০ তারিখে জেল অফিসে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে পারবেন।

ঢাকা, ২০শে এপ্রিল ১৯৫০

গোপনীয়

সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ৭১৪/এসবি/ তারিখ ২০/৪/৫০

বরাবর,

মৌলভী শেখ নূরুল হক, ক্লার্ক

পূর্ববঙ্গ এজি অফিস, ইডেন বিল্ডিঙ, ঢাকা

নিরাপত্তা কারাবন্দি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান আপনার সাথে দেখা করতে চেয়েছেন। আপনাকে এই মর্মে অবহিত করা হচ্ছে যে, এই চিঠিটি কারাগারের ফটকে প্রদর্শনপূর্বক ২২/৪/৫০ তারিখে সকাল ১০.৩০-এ কারাগার অফিসে নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে আপনি তাঁর সাথে দেখা করতে পারবেন:

  1. মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম
  2. চুন্নু মিয়া ও তিনটি ছোটো ছেলেমেয়ে

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের

সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

অনুলিপি প্রেরণ:- /১.

তাঁর ১৮/৪/৫০ তারিখের ম্যামো নং ৯৭০৮/৬০৬-৪৮পিএফ(জে)-এর বরাতে সাক্ষাতের সময়ে একজন আইবি অফিসার উপস্থিত থাকতে অনুমতি প্রদান করতে ঢাকাস্থ আইবি পুলিশের ডিআইজি

পার্শ্ব নোট: ডিএস৩, ফাইলটি কার্যাধীন। আরএসআই একজন অফিসারের ব্যবস্থা করতে পারেন। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২০/৪/৫০।

অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকুন। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২১/৪। দেখা হয়েছে ও নোট রাখা হয়েছে।

২২২

ঢাকাস্থ আইবিইবির একজন সাব-ইন্সপেক্টর আইবিইবির ডিএস৩-কে এই মর্মে রিপোর্ট করেন যে, তিনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছিলেন সেই মোতাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর আত্মীয়দের সাক্ষাতের সময়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয়েছিল।

ঢাকা, ২২শে এপ্রিল ১৯৫০

ডিএস৩

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছিলাম সেই মোতাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সাক্ষাতের সময়ে আমি উপস্থিত ছিলাম:

  • শেখ নূরুল হক
  • মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম ও তিনটি ছোটো ছেলেমেয়ে। আমার উপস্থিতিতে সকাল ১০.৩০ থেকে ১০.৫০ পর্যন্ত তাঁদের সাক্ষাৎটি হয়েছিল। পরিবারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয়েছিল।

পেশকৃত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এসআই

২২/৪/৫০

২২৪

ঢাকাস্থ ডিআইবির অতিরিক্ত এসপি ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসকে মওলানা ভাসানী ও অন্যদের বিরুদ্ধে আইপিসি ১৪৭/৩২৪ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯-এর বিচার প্রসঙ্গে একটি ম্যামো পাঠান।

ঢাকা, ১লা মে ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ, ঢাকা

নং ৩৮৪৬/২১৪-৪৯, তারিখ ১লা মে/৫০

বরাবর,

খান সাহিব ম. ইউসুফ

এসএস, আইবিইবি, ঢাকা

সূত্র: এই অফিসের নং ১৮৯, তারিখ ২৮/১/৫০

বিষয়: মওলানা ভাসানী ও অন্যদের বিরুদ্ধে আইপিসি ১৪৭/৩২৪ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯-এর বিচার।

এই মামলার সব অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইপিসি ১৮৮/১৪৭ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসডিও(এস)-এর কোর্টে ৪/৫ ও ৬/৫ তারিখে মামলার সাক্ষীদের জেরা করা হবে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. গফুর

পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ঢাকা

পার্শ্বটীকা: অপর দুইজনের পিএফ-এ অনুলিপিগুলো রাখা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৪/৫/৫০। প্রস্তাবিত হিসেবে, তারিখসহ স্বাক্ষর এম. ইউসুফ, ৯/৫/৫০।

২২৬

ঢাকাস্থ আইবিইবিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি টেলিফোন ম্যাসেজ পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী ও শামসুল হক ৪/৫/১৯৫০ তারিখে কোর্টে যাবেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি এতে অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ৪ঠা মে ১৯৫০

বাংলা ফর্ম নং ৪৫

টেলিফোন ম্যাসেজ

প্রেরিত: সকাল/বিকাল তারিখ: ৪/৫/৫০

গৃহীত: ০৮.৪৫ সকাল/বিকাল

শব্দ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকাস্থ আইবি।

আজ সকাল ৯.৩০-এ ৩জন নিরাপত্তা কারাবন্দি কোর্টে যাবেন। অনুগ্রহপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যবস্থা নিন। আপনার জ্ঞাতার্থে।

  1. মুজিবুর রহমান,
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান
  3. শামসুল হক

ম্যাসেজের সমাপ্তি, অনুগ্রহপূর্বক পরীক্ষা করুন।

টেলিফোন অপারেটর।

পার্শ্বটীকা: আর/ও, পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের জন্য অনুগ্রহপূর্বক ব্যারাক থেকে ৩জন ডব্লিউসিকে প্রেরণ করুন,

ডিএস১, নিরাপত্তা কারাবন্দিদের পর্যবেক্ষণের জন্য আদেশের সাপেক্ষে ৩জন ওয়াচার নিযুক্ত করা হয়েছে,

অন্য দুটো ফাইলে অনুলিপিগুলো রাখা হয়েছে, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৫/৫০

২২৯

ঢাকার গোয়েন্দা বিভাগের ডিআইজি ৮/৫/১৯৫০ তারিখের শেখ লুৎফর রহমানের একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট বরাবর প্রেরণ করে উল্লেখ করেন যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে ৯/৫/১৯৫০ তারিখে প্রার্থিত সাক্ষাৎটির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

ঢাকা, ৮ই মে ১৯৫০

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭, ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা, ৮/৫/১৯৫০

নং ১১০৮৯/৬০৬-৪৮(সেক)

গোপনীয়

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট,

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

শেখ লুৎফর রহমানের ৮/৫/১৯৫০ তারিখের একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হলো। আমার নিবেদন এউ যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে ৯/৫/১৯৫০ তারিখে সকাল ১১টায় প্রার্থিত সাক্ষাৎটির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

সাক্ষাতে আগ্রহীদের অনুরূপভাবে বিষয়টি অবহিত করা হোক।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশের উপ মহাপরিদর্শকের পক্ষে

ডিএস৩

পার্শ্বটীকা: পৃথকভাবে আরএসআইকে অবহিত করা হয়েছে, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৮/৫/৫০

২৩১

ঢাকাস্থ  ডিআইবির অতিরিক্ত এসপি একটি ম্যামোর মাধ্যমে ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসকে অবহিত করেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের কাজিন ও বোনাই হলেন চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদ। ঢাকার ডিআইবিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রেকর্ড নেই। উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দির সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন বলে ফরিদপুরের ডিআইবিতে চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদের বিষয়ে কোনো রেকর্ড আছে কি না তা যাচাই করতে পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকা, ১২ই মে ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ঢাকা, ১২-১৩ই মে ৫০

নং ৪২৯৪/১০০-৪৯

গোপনীয়

বরাবর,

জনাব ম. ইউসুফ

এসএস, আইবিইবি, ঢাকা

সূত্র: আপনার নং ১০১০৬/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ২৪/৪/৫০।

এই ডিআইবিতে চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে কোনো রেকর্ড নেই। নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রার্থিত সাক্ষাতের বাঞ্ছনীয়তা পরীক্ষার জন্য অনুগ্রহপূর্বক ফরিদপুরের ডিআইবির এসপিকে অনুরোধ করা যেতে পারে। ফরিদপুরের মাদারীপুরের চরদত্তপাড়ার আনিসউদ্দীন হাওলাদারের পুত্র হলেন চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদ। তিনি নিরাপত্তা কারাবন্দির কাজিন ও তাঁর বোনাই।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১২/৫

পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ঢাকা

২৩৩

গোয়েন্দা বিভাগের ডিআইজি পূর্ববঙ্গ সরকারের ঢাকাস্থ স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগের ডিএসকে নিরাপত্তা বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মামলার ১৯৫০-এর মার্চ মাসের সমাপ্তিতে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনার জন্য একটি মেমো প্রেরণ করেন। নথিতে যুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের সাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে তাঁকে আরও ৩ মাস কারাগারে বন্দি রাখার সুপারিশও প্রেরণ করা হয়।

ঢাকা, ১৮ মে ১৯৫০

গোপনীয়

আইবিইবি, ঢাকা

নং ১২৪০৩/৬০৬-৪৮ (সেক) তারিখ ২২/৫/১৯৫০

বরাবর,

ডেপুটি সচিব

পূর্ববঙ্গ সরকার, স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগ

ঢাকা

বিষয়: লুৎফর রহমানের পুত্র নিরাপত্তা বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মামলার ১৯৫০-এর মার্চ মাসের সমাপ্তিতে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা।

উক্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নিম্নলিখিত ডকুমেন্টটির একটি অনুলিপি এতদ্‌সংলগ্ন সিলমোহর মারা একটি খামে আমি পাঠাচ্ছি। সাথে সাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে তিন মাস আরও তাঁকে কারাগারে অন্তরীণ করে রাখার জন্য সুপারিশ করছি। ঢাকা জেলা প্রশাসক সুপারিশে সাক্ষর করেছেন।

  • সংক্ষিপ্ত বিবরণীর দ্বিতীয় সংযোজন
  • সংক্ষিপ্ত বিবরণীর অনুলিপিগুলো ও তার প্রথম সংযোজন সরকারের কাছেই রয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর

ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, পুলিশ

গোয়েন্দা বিভাগ

অবগতির জন্য দ্বিতীয় সংযোজনের অনুলিপি সাথে এর অনুলিপিটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনিটেন্ডেন্টের কাছে প্রেরিত হল।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৮/৫

এসএস ৩

গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র ঢাকাস্থ ১৫০ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়াননিবাসী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণীর দ্বিতীয় সংযোজন। (জন্ম আনুমানিক ১৯২১)

  • ১৬ই মার্চ ১৯৫০-এর জি.ও. নং ৮৮১-এইচ.এস. -এর অধীনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমানে বন্দি আছেন।
  • ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭/৩২৩ ধারার অধীনে বিবাদীর বিপক্ষে এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭/৩২৫ ধারার অধীনে ১৯(১০)৪৯নং মামলায় এবং ৯/১/৫০ তারিখের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৭(৩) নং ধারায় কোতোয়ালি থানায় বন্দি অন্যানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন আছে। অন্য বিশেষ মামলাটিও ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৮৮ ধারা অনুযায়ী (১ম সংশোধনের অনুচ্ছেদ ২ দ্রষ্টব্য) বিচারাধীন আছে।
  • ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৮/৩/৫০ তারিখে ঢাকাস্থ ডিআইবির একজন অফিসার আলোচ্য ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্বীয় মুক্তির জন্য তিনি তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
  • মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সবচেয়ে যুদ্ধংদেহী সদস্য। পরবর্তী তিন মাসের জন্যও তাঁকে কারাগারে অন্তরীণ করে রাখার সুপারিশ করছি আমি। ঢাকার জেলা প্রশাসক এ সুপারিশটি অনুমোদন করেছেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৯/৫,

তারিখসহ সাক্ষর/- ১৮/৫, ডিআইজি, আইবি

২৩৫

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস ৬ ফরিদপুরের ডিআইবির এসপিকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমেদের ১৯/৪/৫০ তারিখের আবেদনের একটি অনুলিপি প্রেরণ করে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আবেদনকারীর সাক্ষাতের বাঞ্চনীয়তা সম্পর্কে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ২৭শে মে ১৯৫০

নং ১২৫২০/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ২৭/৫

গোপনীয়

এসপি, ফরিদপুর ডিআইবি

চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমদের প্রেরিত ১৯/৪/৫০ তারিখের একটি আবেদনের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে আমি প্রেরণ করলাম। উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দির সাথে আবেদনকারীর সাক্ষাতের বাঞ্চনীয়তা সম্পর্কে একটি তদন্ত রিপোর্ট আমাকে প্রেরণ করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।

ফরিদপুরের মাদারীপুরের চরদত্তপাড়ার আনিসুদ্দীন হাওলাদারের পুত্র হলেন এই চৌধুরী সাইফউদ্দীন আহমেদ।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- আইবির এসএস২-এর পক্ষে ডিএস৬

২৩৬

ঢাকাস্থ আইবির ডিআইজি একটি গোপন ম্যামো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে পাঠান যাতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে ১৫/৫/১৯৫০ তারিখে পাঠানো একটি আবেদনের অনুলিপি প্রেরণ করেন। তিনি আরও বলেন যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে উক্ত সাক্ষাৎটি হতে পারে।

ঢাকা, ২৭শে মে ১৯৫০

গোপনীয়

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭, ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা, ২৭/৫/১৯৫০

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫/৫/৫০ তারিখের একটি আবেদন এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে ১৬/৫/৫০ তারিখের আপনার আদেশ নং ৯১২/এসবি প্রাপ্ত হয়ে আমি এই মর্মে বলছি যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে উক্ত সাক্ষাৎটি হতে পারে।

উক্ত আবেদনকারী পক্ষকে অনুগ্রহপূর্বক বিষয়টি অবহিত করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৬/৫

গোয়েন্দা বিভাগের

পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের পক্ষে

ডিএস ৬

২৩৭

ঢাকাস্থ আইবিইবির একজন ইন্সপেক্টর এসএস/ডিএস-৬ বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন যাতে বলা হয় যে, তিনি ১/৬/১৯৫০ তারিখে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার নেন। জনাব ভাসানী ইসলাম ও তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। উক্ত অফিসারটি একই দিনে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কথা বলেন। তাঁর (শেখ মুজিবুর রহমান) সাথে কথা বলে তাঁর মনে হয়েছিল যে, সমাজতন্ত্রের আদর্শে তিনি বিশ্বাসী নন। বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক অসঙ্গতির জন্য উভয় নেতা পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেন।

ঢাকা, ১লা জুন ১৯৫০

গোপনীয়

এসএস/ডিএস ৬

আইবি/ইবি

(সূত্র: ৬০৬/৪৮-পি.এফ. ভাগ ২-এনএসপিএল ১১-সাক্ষাৎকারের রিপোর্ট)

[গোয়েন্দা বিভাগের একজন অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদন, তারিখ ১/৬/৫০]

জনাব,

আদেশ তামিলপূর্বক ১/৬/৫০ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি মওলানা আবদুল হামিদ খান (ভাসানী) র একটি সাক্ষাৎকার নেই আমি। ইসলাম ও তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় তিনি পঞ্চমুখ ছিলেন। ইসলামের সাথে তুলনামূলক আলোচনা করার জন্য তাঁকে সমাজতন্ত্রের প্রসঙ্গ টানতে দেখা গেছে। তাঁর কথা শুনে আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হলো, তাঁর নিকট সমাজতন্ত্রের গুরুত্ব এর থেকে অধিক নয়।

একই কারাগারে নিরাপত্তা বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানেরও একটি সাক্ষাৎকার নেই। তাঁর বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে, সমাজতন্ত্রের আদর্শে তিনি বিশ্বাস করেন না।

বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক অসঙ্গতির জন্য উভয় নেতা পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেন।

নিরাপত্তা বন্দি শামসুল হক অতি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন।

m.o.s

তারিখসহ সাক্ষর/- এস.এন. মাহমুদ

ইন্সপেক্টর, আইবিইবি, ঢাকা, ১/৬/৫০

পার্শ্বনোট:

ব্যক্তিগত নথিতে রাখুন, তারিখসহ সাক্ষর/- ১/৬

গোপনীয়, ব্যক্তিগত নথি নং ১৩২৪১/৬০৬-৪৮, তারিখ ১/৬/৫০।

একটি অংশ [] অবগতির জন্য এর একটি অনুলিপি ডিআইবি ঢাকার এডিশনাল এসপিকে পাঠানো হয়েছে।

ভাসানীর মওলানা নথিতে একটি অনুলিপি রাখা হয়েছে, তারিখসহ সাক্ষর/- ৯/৬/৫০

২৩৮

গোপালগঞ্জের কাসেম নামের এক ব্যক্তি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিটির কিছু অংশ ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় এবং তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা আপত্তিকর হওয়ায় চিঠিটি আটকে রাখা হয়।

ঢাকা, ৩রা জুন ১৯৫০

সেন্সর সার্টিফিকেট

নং ১৩১৪৯/৬০৬-৪৮ তারিখ ৬/৬/৫০

নং ১৩৬বি (৩৪)

চিঠির তারিখ: ২৬/৫/৫০

প্রাপ্তির তারিখ: ৩/৬/৫০

প্রেরক: কাসেম, গোপালগঞ্জ

প্রাপক: নিরাপত্তা কারাবন্দি, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের শেখ মুজিবুর রহমান

ম্যামো: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ১০৪৮/এসবি, তারিখ ৩/৬/৫০

সেন্সর অফিসারের মন্তব্য। পাঠানো যেতে পারে।

চিঠিটির বেশির ভাগ অংশ ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং আপত্তিকর।  চিঠিটি আটকে রাখা যাবে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৬

পার্শ্বটীকা: এসএস৩, ভালো করে পরীক্ষা করার জন্য। চিঠিটি আটকে রাখা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৬

প্রস্তাবিত ব্যক্তির বিষয়ে অ্যাকশন। চিঠির লেখকের বিশেষত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে ফরিদপুরের ডিআইবিকে প্রশ্ন করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৬

তারিখ ২৬/৫/৫০

গোপালগঞ্জ, পূর্ব পাকিস্তান

স্নেহের ভাইজান,

আমার ছালাম নিবেন। অনেক দিন গত হয় আপনার কোন সংবাদ পাইনা। আশা করি কুশলে আছেন। বর্ত্তমানে সামচু ও ফায়েক কুটারীদের কার্য্য কলাপ আর সইতে পারে না।আমরা বোদ হয় চির দিনের জন্য কষ্ট নিয়েই জন্ম গ্রহন করে ছিলাম। আজ আপনী জেলে আছেন হয়তো মনে করবেন যে ওরা আমার জন্য চিন্তা করেনা তাহা হলে ভুল বুজবেন।আমরা আপনার ভালবাসিনা৷ কিন্তু আপনার কার্য্যকে আমরা ভালবাসি। সেজন্যই আমরা আজ দুঃখ সাগরে ভেসে আছি। জানতে পারলাম যে আপনাকে সিগ্র বেল দিবেনা৷ যাক তার জন্য আমরা দুঃখ করিনা। কারন পূর্ব্ব পাকিস্তানে যে অন্যায় অত্যাচার বা জুলুম চলেছে সেই অন্যায় অত্যাচার এবং জুলুমের বিরুদ্ধে জেহাদ করাই সত্যিকার মুসলমান এবং পাকিস্তান নাগরিকের কর্তব্য। আমরা যত দিন বেচে থাকবো ততদিন ঐ নীতিই আমাদের কর্তব্য। যাক বেশী লিখতে চাই না। আমার শরীর খুব খারাপ। মওলানা সাহেব কে আমার ভক্তি পূর্ন ছালাম ও কদম বুচি জানাবেন৷ দেশের অবস্থা শুনে আর লাভ কি৷ পত্র পাঠ বাড়ীর ঠিকানায় উত্তর দেবেন। সহিদ সাহেব কি আপনার Case এর জন্য ঢাকা আসবে৷ আমি জুন মাসের মধ্যে ঢাকা যাব৷ এখন আর লিখতে পারিনা।

ইতি

আপনার একান্ত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কাসেম

২৩৯

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান অপর নিরাপত্তা কারাবন্দি আবদুর রবকে যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন তার সেন্সর সার্টিফিকেটের মন্তব্যসমূহ। এমন আদেশ হয়েছিল যে, বাংলায় লেখা পত্রটি বিলির জন্য অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে কিন্তু তার দাগানো অংশটুকু বাদ দিতে হবে। ইংরেজি পত্রিকাটি আটকে রাখা যেতে পারে।

ঢাকা, ৩রা জুন ১৯৫০

সেন্সর সার্টিফিকেট

নং ১২৯৭৪/৬০৬-৪৮ তারিখ ৩/৬/৫০

নং ১৩১ এএল

চিঠির তারিখ-

প্রাপ্তির তারিখ- ৩০/৫/৫০

প্রেরক: নিরাপত্তা কারাবন্দি, শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

প্রাপক: নিরাপত্তা কারাবন্দি, সন্ত্রাসী আবদুর রব, এলএলবি বরিশালের দণ্ডিত অপরাধী

ম্যামো: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ১০২৭/এসবি তারিখ ৩০/৫/৫০,/সি/ও ডিআইজি, আইবি

সেন্সর অফিসারের মন্তব্য। পাঠানো যেতে পারে।

বাংলা চিঠিতে দাগানো অংশটুকু [] বাদ দেওয়া যেতে পারে এবং চিঠিটি পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ইংরেজিতে লেখা চিঠিটি খুব আপত্তিকর আর তাই চিঠিটি আটকে দেওয়া যেতে পারে। চিঠিটিতে এসসির রাজনৈতিক অবস্থান, তাঁর অগণতান্ত্রিক মানসিকতা বিষয়ে বলা হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার সমালোচনাও ছিল এতে।

পার্শ্বটীকা: এসএস৩, ভালো করে পরীক্ষা করে দেখার জন্য। ১) বাংলা লেখা চিঠিটি পাস করা যেতে পারে এবং []-এর মধ্যে দাগানো অংশটুকু বাদ দেওয়া যেতে পারে। ইংরেজি চিঠিটি আটকে রাখা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১/৬

জি জনাব। ঢাকা কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের মাধ্যমে নিরাপত্তা কারাবন্দিকে অবহিত করা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১/৬

জি। নিরাপত্তা কারাবন্দির সাথে যোগাযোগের স্বার্থে চিঠিটি ধরে রাখতে আমাদের কি সুপার ইনটেনডেন্টকে জানানো উচিত, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১/৬

অফিস, বাংলা লেখা চিঠিটি পাস করা হয়েছে এবং ইংরেজি লেখা চিঠিটি আটকে রাখা হয়েছে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৩/৬

২৪০

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস৬ কে ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি একটি গোপন ম্যামো পাঠান যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, গোপালগঞ্জের কাসেম নামক একজন ব্যক্তি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি আপত্তিকর চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিটির লেখক সম্পর্কে তাঁদের পূর্ণ বৃত্তান্তের প্রয়োজন।

ঢাকা, ৯ই জুন ১৯৫০

গোপনীয়

নং ১৩৩৩৭/৬০৬-৪৮ পিএফ তারিখ ১০/৬

বরাবর,

ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি

গোপালগঞ্জের কাসেম নামের এক ব্যক্তি ২৬/৫/৫০ তারিখে ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ি নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি আপত্তিকর চিঠি লেখেন।

যদি সম্ভব হয় অনুগ্রহপূর্বক পত্রলেখকের বিস্তারিত ও উদ্দেশ্য আমাদের জানান।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৯/৬

আইবির এসএস৩-এর পক্ষে

ডিএস৬

২৪১

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস-৬ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও এসএম হলের প্রভোস্টের মধ্যকার সাক্ষাতের অনুমতি কখন প্রদান করা যায় তা জানতে চান।

ঢাকা, ১১ই জুন ১৯৫০

গোপনীয়

নং ১৩৪৬১/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ১৩/৬

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

এই অফিসের ২৭/৫/৫০ তারিখের নং ১২৫১৯-এর বরাত দিয়ে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও এসএম হলের প্রভোস্টের মধ্যকার সাক্ষাতের সুপারিশ করা যাচ্ছে।

যদি আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদের জানিয়ে দেন যে, কখন উক্ত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা যায় তবে আমি বাধিত হব।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১১/৬

আইবির ডিআইজির পক্ষে ডিএস৬

২৪৩

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একটি গোপন ম্যামো পাঠিয়ে অবহিত করেন যে, ১৭/৬/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর মধ্যে সাক্ষাতের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ।

ঢাকা, ১৫ই জুন ১৯৫০

গোপনীয়

পূর্ববঙ্গ সরকার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

ম্যামো নং ১১১৩/এসবি, তারিখ ১৫/৬/৫০ ও ১১১৬/এসবি, তারিখ ১৬/৬/৫০

জরুরি

বরাবর,

প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আপনার সাক্ষাতের দিনক্ষণ হিসেবে এই মাসের ১৭ তারিখ সকাল ১১ টা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে জেল গেইটে এই চিঠিটি দেখাবেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ খান

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১১১৪/এসবি, তারিখ ১৫/৬/৫০।

ঢাকাস্থ আইবির ডিআইজিকে ১৩/৬/৫০ তারিখের তাঁর রেফারেন্স নং ১৩৪৬১/৬০৬-৪৮ পিএফ (জে)র প্রেক্ষিতে উক্ত সাক্ষাতের সময়ে একজন আইবি অফিসারকে নিযুক্ত করতে একটি অনুলিপি প্রেরিত হয়েছিল।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের

সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

পার্শ্বটীকা: রিডার এসআইকে, দয়া করে সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৫/৬

সাক্ষাৎটি তদারক করতে এসআই মাজদার হুসাইনকে দয়া করে দায়িত্ব দেবেন।

এতদ্‌সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রিপোর্ট সংযুক্ত করা হলো। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৭/৬

২৪৫

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে দুঃখের সাথে অবহিত করেন যে, অনিবার্যকারণবশত ১৭/৬/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর যে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল তা হবে না। তিনি তাঁর সাথে ১৯/৬/১৯৫০ তারিখে দেখা করতে পারবেন।

ঢাকা, ১৬ই জুন ১৯৫০

গোপনীয়

পূর্ববঙ্গ সরকার

সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১১১৫/এসবি, তারিখ ১৬/৬/৫০

বরাবর,

প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: একই অফিসের পত্র নং ১১১৩/এসবি, তারিখ ১৫/৬/৫০

অতিশয় দুঃখের সাথে আপনাকে অবহিত করছি যে, এই মাসের ১৭ তারিখে সকাল ১১টায় নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আপনার সাক্ষাৎ হওয়ার যে কথা ছিল অনিবার্যকারণবশত তা সম্ভব হচ্ছে না। আপনি তাঁর সাথে একই মাসের ১৯ তারিখে রোজ সোমবার সকাল এগারোটায় এই চিঠিটি প্রবেশপথে প্রদর্শনপূর্বক দেখা করতে পারবেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১১১৬/এসবি, তারিখ ১৬/৬/৫০

অনুষ্ঠিতব্য সাক্ষাতের সময়ে আইবির একজন অফিসারকে নিযুক্ত করতে ১৩/৬/৫০ তারিখের সূত্র নং ১৩৪৬১/৬০৬-৪৮ পিএফজের বরাত দিয়ে ঢাকাস্থ আইবি পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের

সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

পার্শ্বনোট: আজ সকাল ১১.৩০-এ আরডি থেকে গৃহীত হয়েছে, এস উদ্দীন ১৯/৬/৫০।

২৪৬

ঢাকাস্থ আইবির একজন এসআই ঢাকাস্থ আইবির ডিএস২-কে রিপোর্ট করেন যে, যখন ১৬/৬/১৯৫০ তারিখে মিটফোর্ড হাসপাতালের ড. এ হুসাইন শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্য ৩জন কারাবন্দির দাঁত পরীক্ষা করেন তখন তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। ডক্টর সাহেব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। আপত্তিকর কিছু ঘটে নি।

ঢাকা, ১৭ই জুন ১৯৫০

ডিএস ২,

যখন মিটফোর্ড হাসপাতালের ড. এ. হুসাইন নিম্নোক্ত কারাবন্দিদের দাঁত পরীক্ষা করেন তখন আমি ১৬ই জুন বেলা ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আদিষ্ট হয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং ডক্টর সাহেব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। রিপোর্ট করার মতো আপত্তিকর কিছু ঘটে নি।

  • শেখ মুজিবুর রহমান
  • লাল মোহন শাহা
  • পৃথ্বিরাজ সিং
  • সুধীর চন্দা

তারিখসহ স্বাক্ষর/- মুনশি হুসাইন উদ্দীন

এসআই, আইবি, ১৭/৬/৫০

২৪৭

ঢাকাস্থ আইবির একজন এসআই একটি তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন যাতে তিনি বলেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও ঢাবির প্রক্টরের মধ্যে ১৭/৬/১৯৫০ তারিখে সংঘটিতব্য সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। উক্ত সাক্ষাৎটি হয় নি।

ঢাকা, ১৭ই জুন ১৯৫০

সূত্র:- সংযুক্ত ম্যামো নং  ১১১৩/এসবি, তারিখ ১৫/৬/৫০

আজ সকাল ১০.৫০ মিনিটে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও ঢাবির প্রক্টরের মধ্যে সংঘটিতব্য সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ে আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।সাক্ষাতের সময়ে দলটি আসেনি এবং উক্ত সাক্ষাৎটি হয়নি। কারাবন্দিকে তাঁর বিশেষ কাজে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

পেশকৃত

ম. মাসদার হোসাইন

আসআই, আইবি

১৭/৬/৫০

২৪৮

পূর্ব পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের শেখ হাবিবুর রহমান ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর একটি আবেদন করেন যাতে তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর ভাইপো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ২৩/৬/১৯৫০ তারিখে তাঁর চাচি, বোনঝি, মামা ও তাঁদের ছেলেমেয়েসহ সাক্ষাৎ করতে চান।

ঢাকা, ২০শে জুন ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি পূর্ববঙ্গ,

ওয়াইজঘাট, ঢাকা

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আমার ভাইপো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সামনের শুক্রবার ২৩/৬/১৯৫০ তারিখে দুপুর ২টায় তাঁর চাচি, বোনঝি, মামা ও তাঁদের ছেলেমেয়েসহ সাক্ষাৎ করতে চাই।

আপনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমি বাধিত থাকব।

  • চাচি-সায়েদা বেগম
  • বোনঝি লুতফা বেগম
  • মামা- আলিমুজ্জামান খান ও ছেলেমেয়ে

বিনীত নিবেদক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

শেখ হাবিবুর রহমান

ইস্ট পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল

কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি., ঢাকা

পার্শ্বনোট: একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে ২৩/৬/৫০ তারিখে সকাল ৮.৩০-এ সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। কারাগারে জানিয়ে দিন এবং আবেদনকারীকে অবহিত করুন। একজন আইবি অফিসারকে নিয়োগ করুন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২০/৬

২৪৯

ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএস১ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করার অনুমতি চেয়ে প্রেরিত শেখ হাবিবুর রহমানের আবেদনের একটি অনুলিপি তিনি প্রেরণ করেছেন।

ঢাকা, ২০শে জুন ১৯৫০

জরুরি

গোপনীয়

নং ১৪০১৭/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ২০/৬/৫০

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার,

আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা কারাবন্দ শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে শেখ হাবিবুর রহমান থেকে প্রাপ্ত একটি তারিখবিহীন আবেদনের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে আমার বিনীত নিবেদন এই যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে ২৩/৬/৫০ তারিখ সকাল ৮.৩০-এ প্রার্থিত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে জনাবের যেন আজ্ঞা হয়।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২০/৬

আইবির ডিআইজির পক্ষে

এসএস১

অবহিতকরণের জন্য ইস্ট পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের মৌলভী শেখ হাবিবুর রহমানকে প্রেরণ করা হয়েছে। সাক্ষাৎ করতে তিনি অন্যদের সাথে ২৩/৬/৫০ তারিখে সকাল ৮.৩০-এ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে উপস্থিত থাকবেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২০/৬

এসএস১, আইবিপার্শ্বনোট: আর.এস.আই., এসএস১ নিচের আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেন। প্রয়োজনের জন্য। অনুগ্রহপূর্বক, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৬/৬/৫০।