গোপন নথিসমূহ ১ম খণ্ড (২৫১-৩০০)

২৫১

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ঢাকার আইবির ডিআইজিকে একটি ম্যামো পাঠান যেখানে তিনি মুক্তিলাভের জন্য নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও সুধীরলাল মজুমদারের করা ২টি আবেদনপত্র প্রেরণ করেন। উক্ত ২জন আবেদনকারী যথাক্রমে মুক্তিলাভের জন্য ও সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেন।

ঢাকা, ২৪শে জুন ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

ম্যামো নং ১১৬৩/এসবি, তারিখ ২৪/৬/৫০

বরাবর,

পুলিশের ডিআইজি, আইবি, ঢাকা

মুক্তিলাভের জন্য নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও সুধীরলাল মজুমদারের করা ২টি আবেদনপত্র আমি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করলাম। উক্ত দুজন আবেদনকারী যথাক্রমে মুক্তিলাভের জন্য ও সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট

পার্শ্বটীকা: এইচএ, সংযুক্ত কাগজগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন। ২৪/৬/৫০ তারিখ থেকে ফাইলটি ডিআইজির কাছে আছে এবং তাই কাগজগুলো ফাইলে রাখা হয়নি। আপনার জ্ঞাতার্থে, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৪/৭

ওএস, ফাইলটি সহকারীর নিকট প্রেরণ করা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৪/৭

এটা কি শেখ মুজিবুর রহমানের পিএফ? এতদ্‌সঙ্গে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৭। হ্যাঁ। অনুগ্রহপূর্বক। তারিখসহ স্বাক্ষর/ ৫/৭।

২৫২

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একটি গোপন চিঠি প্রেরণ করেন যাতে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি ২৬/৬/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

ঢাকা, ২৪শে জুন ১৯৫০

গোপনীয়

পূর্ববঙ্গ সরকার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

ম্যামো নং ১১৬৫/এসবি, তারিখ ২৪/৬/৫০

বরাবর,

প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনাকে এতদ্বারা অবগত করা যাচ্ছে যে, এই কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একই মাসের ২৬ তারিখ, সোমবার সকাল ১১.৩০ মিনিটে জেল অফিসের জেল গেটে এই চিঠিটি প্রদর্শনের সাপেক্ষে আপনি সাক্ষাৎ করতে পারেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

উক্ত সাক্ষাৎটি তদারক করার জন্য একজন আইবি অফিসারকে নিয়োগ করতে ঢাকার আইবির পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়। যেহেতু সাক্ষাৎ করার পক্ষ আসেনি সেহেতু ১৯/৬/৫০ তারিখের সাক্ষাৎটি হয়নি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

পার্শ্বটীকা: (১) ডিএস ৬। একজন অফিসারকে দয়া করে নিযুক্ত করা যেতে পারে।

(২) রিডার এসআইকে, অনুগ্রহ করে ব্যবস্থা করুন, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৪/৬

(৩) যদি আজ রিডার এসআইকে পাওয়া না যায় তবে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত থাকতে মুনসি হোসেন উদ্দীনকে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৪/৬

২৫৪

একটি চিঠির সেন্সর সার্টিফিকেটে থাকা মন্তব্যসমূহ। চিঠিটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ অফিসের মুক্তাদির হোসেন (পাঁচু)-র কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেন্সর অফিসার চিঠিটি প্রেরণের অনুমতি দিয়েছিলেন।

ঢাকা, ২৪শে জুন ১৯৫০

সেন্সর ছাড়পত্র প্রাপ্ত ও অনুমিত

ডিআইজি, আইবিইবি, ঢাকা

সেন্সর সার্টিফিকেট

নং ১৫৫এ(১০)

চিঠির তারিখ:- ২২/৬/৫০

চিঠিপ্রাপ্তির তারিখ:- ২৪/৬/৫০

প্রেরক: নিরাপত্তা কারাবন্দি, সন্ত্রাসী/অপরাধী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমান

প্রাপক: নিরাপত্তা কারাবন্দি, সন্ত্রাসী/অপরাধী মুক্তাদির হোসেন (পাঁচু), ছাত্রলীগ অফিস, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর

ম্যামো: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার/সিও ডিআইও, আইবি ১১৬০/এসবি তারিখ ২৪/৬/৫০/১২২২/এসবি তারিখ ৫/৭/৫০

সেন্সর অফিসারের মন্তব্য। প্রেরণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

[]-এ দাগানো অংশটুকু বাদ দিয়ে চিঠিটি প্রেরণ করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৫/৭/৫০

গোপনীয়

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ২৪শে সেপ্টেম্বর ৫০

নং ৪০২৬/৬-৫০(আই)

বরাবর,

জনাব এ হোসেন

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট

আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

সূত্র: আপনার নং ১৭৫৬৮/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ২৮/৮/৫০।

ম. হোসেন হলেন মুক্তাদির হোসেন ওরফে পাঁচু। তিনি ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার বর্নির (মুন্সিবাড়ি) দলিলউদ্দীন সাহেবের পুত্র। তাঁর বয়স প্রায় ২২ বছর। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের সমর্থক ও ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন তিনি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৪/৯

(এম.এস. হক)

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

২৫৫

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান নিজের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে আইবিইবির ডিআইজি বরাবর আবেদন করেন।সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে এবং সেভাবে সাক্ষাৎকারী ব্যক্তিদের অবহিত করতে তিনি তাঁকে অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ২৫শে জুন ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি, আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের মাধ্যমে, ৫ই জুন ৫০

জনাব,

নিবেদন এই যে, আমি আমার বোনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু অনুমতি পাইনি। অনুগ্রহপূর্বক আমার বোন মোছাম্মত আছিয়া বেগম, বোনাই মৌলভী শেখ নূরুল হক, তাঁদের তিনটি ছোটো ছেলেমেয়ে এবং আমার ভাতিজা কাজী আলমগীর হোসেনের সাথে দেখা করতে অনুমতি প্রদান করার অনুরোধ করছি।

আমাকে দেখা করার অনুমতি প্রদান করে আমার বোনাই ঢাকা চকবাজারের ২৫ কামিনীভূষণ রুদ্র রোড নিবাসী শেখ নূরুল হককে অবহিত করলে বাধিত থাকব।

আপনার একান্ত বাধ্যগত

শেখ মুজিবুর রহমান

নিরাপত্তা কারাবন্দি

কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

২৫৬

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, জেল অফিসে ২৮/৬/১৯৫০ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রভোস্টের দেখা করার দিন।

ঢাকা, ২৬শে জুন ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১১৭৬/এসবি, তারিখ ২৬/৬/৫০ বা ২৭/৬/৫০

বরাবর,

প্রভোস্ট

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা

সূত্র:- আপনার ম্যামো নং ২১৩৫ তারিখ ২৪/৬/৫০

এতদ্বারা আপনাকে অবহিত করা যাচ্ছে যে, এই মাসের ২৮ তারিখে সকাল ১১টায় জেল অফিসের জেল গেটে এই চিঠিটি প্রদর্শনপূর্বক এই জেলের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আপনি দেখা করতে পারবেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

উক্ত সাক্ষাৎটি তদারক করার জন্য একজন আইবি অফিসারকে নিয়োগ করতে ঢাকার আইবির পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়। যেহেতু সাক্ষাৎ করার পক্ষ আসেননি সেহেতু সাক্ষাৎটি হয়নি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ইন্সপেক্টর ডব্লিউ.এ. চৌধুরী উক্ত সাক্ষাতের সময়ে ছিলেন। অবশ্য তিনি অন্য কোনো কাজে সে সময় কারাগারে ছিলেন।

চিঠিটি এই অফিসে ২৭/৪/৫০ তারিখে এসেছিল এবং উচিত ছিল এর আগেই রেখে দেওয়া। অনুগ্রহপূর্বক ও/এসকে দেখান।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৮/৬

২৫৯

শেখ মুজিবুর রহমান ও ফণীভূষণের ইন্টারভিউর রিপোর্ট পাঠাতে ফরিদপুরের ডিআইবির এসপির নিকট থেকে ঢাকার ডিনটেলকে প্রেরিত একটি রেডিয়োগ্রামের অনুলিপি।

ফরিদপুর, ২৯শে জুন ১৯৫০

ফরিদপুরের ডিআইবির সুপার ইনটেনডেন্টের নিকট থেকে ঢাকার ডিনটেলকে প্রেরিত ২৯/৬/৫০ তারিখের ৬৪৮নং রেডিয়োগ্রামের অনুলিপি।

কেইস রিভিউ করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফণীভূষণ ও মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে অনুগ্রহপূর্বক ইন্টারভিউ রিপোর্ট প্রেরণ করেন।

২৬০

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি চিঠি প্রেরণপূর্বক তা সেন্সর করে পোস্ট করতে অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা আইবির ডিআইজিকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন।

ঢাকা, ৫ই জুলাই ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১২২২/এসবি, তারিখ ৫/৭/৫০

গোপনীয়

বরাবর,

পুলিশের ডিআইজি, আইবি, ঢাকা

আপনার ১/৭/৫০ তারিখের পত্র নং ১৪৬০০/৬০৬-৪৮ পি.এফ.-এর বরাতে এতদ্‌সঙ্গে আমি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি চিঠি প্রেরণপূর্বক তা সেন্সর করে পোস্ট করতে রেফারেনস স্লিপসহ অনুরোধ করছি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

সুপার ইনটেনডেন্ট,

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

২৬১

দেখা করার অনুমতি চেয়ে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ২২/৬/১৯৫০ তারিখের একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণপূর্বক ঢাকা আইবির ডিআইজি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন।

ঢাকা, ৫ই জুলাই ১৯৫০

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭ ওয়াইজ ঘাট রোড

ঢাকা, তারিখ ১৯৫০

নং ১৪৯৪৮ (সেক), তারিখ ৬/৭

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

২৪/৬/৫০ তারিখের আদেশ নং ১১৬৩/এসবি অনুযায়ী নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ২২/৬/১৯৫০ তারিখের একটি আবেদনপত্রের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণপূর্বক আমার নিবেদন এই যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে শীঘ্র একটি সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাৎকারী দল/এই অফিসকে তদ্রূপ অবহিত করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/৭

গোয়েন্দা বিভাগের

পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের পক্ষে

২৬২

এসপিওর অধীনে আটক নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ত্রৈমাসিক রিপোর্ট সম্পর্কিত ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্যসহ একটি গোপন ম্যামো ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপিকে প্রেরণ করেন। উক্ত রিপোর্টে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, দলের পোর্টফোলিও, গ্রেপ্তারি ও মুক্তির তথ্যগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদপুর, ৬ই জুলাই ১৯৫০

গোপনীয়

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ৮ই জুলাই ১৯৫০

নং ৩০২৫/১৩-৪১

বরাবর,

জনাব এ হুসাইন

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট

আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

বিষয়: বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশে আটক নিরাপত্তা কারাবন্দির ত্রৈমাসিক রিভিউ।

মার্জিনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণের একটি অনুলিপির সঙ্গে এই জেলার নিম্নলিখিত নিরাপত্তা কারাবন্দির রিভিউ রিপোর্টের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হল।

  1. ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়া নিবাসী শেখ মুজিবুর রহমান (আওয়ামী মুসলিম লীগ)

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/৭/৫০

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

আওয়ামী মুসলিম লীগ

  • ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র, ঢাকার ১৫ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়ান নিবাসী শেখ মুজিবুর রহমান।

ব্যক্তিটি জনাব সোহরাওয়ার্দীর অন্ধ ভক্ত এবং পূর্ববঙ্গ আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক।

হানিকর কর্মকাণ্ডের জন্য ২৯/৪/৪৯ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি হিসেবে আটকে রাখা হয়। তিনি ২৬/৬/৪৯ তারিখে নিঃশর্ত মুক্তি পান। ১৪৪ ধারা অমান্য করে জনসভা করার জন্য গোপালগঞ্জ পুলিশ (ফরিদপুর) কর্তৃক তিনি ১৮/৮/৪৯ তারিখে পুনরায় গ্রেপ্তার হন এবং পিপিসির ১৪৩/১৮৮ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় যা এখন বিচারাধীন। এই মামলাটির জামিনে থাকা অবস্থায় উক্ত ব্যক্তি পাকিস্তানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববঙ্গ ভ্রমণের অনুষ্ঠানের সময়ে ১১/১০/৪৯ তারিখে ঢাকাস্থ আরমানি টেলার ময়দানে একটি সভায় সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রদানের জন্য ঢাকা পুলিশ কর্তৃক পুনরায় ৩১/১২/৪৯ তারিখে গ্রেফতার হন।

তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগেরও একজন যুদ্ধংদেহী সদস্য এবং ছাত্র কমিউনিটির একটি অংশে বেশ সক্রিয়।

উপর্যুক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে  এবং বর্তমানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পর্যালাচনা সাপেক্ষে আমি তাঁর আটকাবস্থা জারি রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। মুচলেকা দেওয়ার সাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি প্রদান করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/৭/৫০

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

এই জেলায় আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যক্রমে অচলাবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমি নিশ্চিত নই যে, সংগঠনটি কতখানি পাকিস্তানবিরোধী। যেমন এই ক্ষেত্রে তেমন বিশেষ কোনো মতামত নেই।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এস.এ. সোবহান

ডি.এম. ৬/৭/৫০

২৬৩

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট মিসেস আছিয়া বেগমকে অবহিত করেন যে, তিনি ১১/৭/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েছেন।

ঢাকা, ৮ই জুলাই ১৯৫০

গোপনীয়

পূর্ববঙ্গ সরকার

সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১২৩৬/এসবি, তারিখ ৮/৭/৫০

বরাবর,

মিসেস আছিয়া বেগম ও অন্যান্য

এতদ্বারা ১১/৭/৫০ তারিখে সকাল ১০টায় এই অফিসে চিঠিটি প্রদর্শনপূর্বক নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আপনার সাক্ষাৎ মঞ্জুর করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে

ম্যামো নং ১২৩৭/এসবি, তারিখ ৮/৭/৫০

সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে একজন আইবি অফিসারকে নিযুক্ত করতে ৬/৭/৫০ তারিখের ম্যামো নং ১৪৯৪৮/৬০৬-৪৮ পি.এফ.-এর বরাতে ঢাকাস্থ আইবি পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের

সুপার ইনটেনডেন্ট

পার্শ্বটীকা: ডিএস ৬, ভালো করে দেখার জন্য। সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে আগামী কাল একজন অফিসারকে অনুগ্রহপূর্বক নিযুক্ত করুন। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১০/৭

এসআই ওয়াহেদ আলী অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাতের সময়ে থাকবেন, তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১০/৭

২৬৪

ফরিদপুরের ডিআইবির ডিআইও ২৭/৬/১৯৫০ তারিখে রিপোর্ট করেন যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এটা জানা গেছে যে, কাশেম ও আবুল কাশেম মোল্লা মূলত একই ব্যক্তি, এবং সে এএলের শক্তিশালী সমর্থক ও শেখ মুজিবুর রহমানের কাছের ব্যক্তি।

ফরিদপুর, ৮ই জুলাই ১৯৫০

একজন ডিআইওর ২৭/৬/৫০ তারিখের রিপোর্টের অনুলিপি:

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এটা জানা গেছে যে, কাশেম ও আবুল কাশেম মোল্লা মূলত একই ব্যক্তি। সে ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার বেন্নাবাড়ির মরহুম নূরুদ্দীন মোল্লার সন্তান।তার বয়স প্রায় ২৪ বছর এবং সে গোপালগঞ্জ এস.এন. একাডেমিতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। সে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক এবং নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছের ব্যক্তি। বর্তমানে এখানে তাঁর কোনো বাহ্যিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়নি। সে এই চিঠিটি লিখেছে।

***

গোপনীয়

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ৮ই জুলাই ১৯৫০

নং ৩০৫৯/৩৩-৫০

অবহিতকরণের জন্য ১০/৬/৫০ তারিখের সূত্র নং ১৩৩৩৭/৬০৬-৪৮ পি.এফ. (জে)-র বরাত দিয়ে ঢাকাস্থ পূর্ববঙ্গের আইবি পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট জনাব এ. হুসাইনকে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৮/৭

(এম. এস. হক)

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

২৬৫

ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপিকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে উল্লেখ করা হয় যে, সাইফউদ্দীন আহমদ হলেন আওয়ামী লীগার চৌধুরী শামসুদ্দীন আহমদের কাজিন ও নূরুদ্দিন আহমেদের ভাই। নূরুদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানের বোনাই। সাইফউদ্দীন আহমদও আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

ফরিদপুর, ৮ই জুলাই ১৯৫০

গোপনীয়

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ৮ই জুলাই ১৯৫০

নং ৩০৫৪/৩৩-৫০

বরাবর,

খান সাহিব এম. ইউসুফ

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট

আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

সূত্র:- আপনার নং ১২৫২০/৬০৬-৪৮ পি.এফ. (জে), তারিখ ২৭/৫/৫০

সাইফউদ্দীন আহমদ দত্তপাড়ার এমএলএ চৌধুরী শামসুদ্দীন আহমদ ওরফে বাদশা মিয়ার কাজিন, একজন আওয়ামী লীগার ও নূরুদ্দীন আহমদের ভাই। শেখ মুজিবুর রহমানের বোনকে বিয়ে করেছেন নূরউদ্দিন আহমদ। সাইফউদ্দীন আহমদ নিজেই আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক।

এই ব্যক্তি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অবাঞ্চিত।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৮/৭

(এম.এস. হক)

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

২৬৭

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর একটি আবেদন করেন যাতে তিনি বলেন যে, তাঁর habeas corpus পিটিশন বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য জনাব এইচএস সোহরাওয়ার্দী, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান ও অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন।

ঢাকা, ১৯ই জুলাই ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি, আইবিইবি,ঢাকা

মাধ্যম: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট

জনাব,

আমার habeas corpus পিটিশন বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য জনাব এইচএস সোহরাওয়ার্দী, বার এট ল, রেস্ট হাউজ রমনা ঢাকা, ম্যাসার্স অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান, হাটখোলা রোড, টিকাটুলি ঢাকা, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, সোয়ারিঘাট, ঢাকা, অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ খান, খাজে দেওয়ান, ঢাকার সাথে জরুরিভিত্তিতে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন।

অতএব আমাকে আকাঙ্ক্ষিত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে এবং তদ্রূপ উক্ত ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করতে জনাবের যেন আজ্ঞা হয়।

তারিখ

ঢাকা, ১৯ই জুলাই ১৯৫০

আপনার একান্ত

শেখ মুজিবুর রহমান

নিরাপত্তা কারাবন্দি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

২৬৮

কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট নিরাপত্তা কারাবন্দি গোপাল চন্দ্র সরখেল ও অন্য ৩জনের করা ৩টি আবেদনপত্র নিষ্পত্তির জন্য ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর প্রেরণ করেন। এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ খানসহ আরও দুইজন অ্যাডভোকেটের সাথে সাক্ষাৎ মঞ্জুর করা হয়।

ঢাকা, ২০শে জুলাই ১৯৫০

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট থেকে ঢাকা আইবিইবি পুলিশের উপমহাপরিচালককে প্রেরিত ম্যামো নং ১২৭৬/এসবি, তারিখ ২০/৭/৫০।

গোপাল চন্দ্র সরখেল ও অন্য ৩জনের করা ৩টি আবেদনপত্রের অনুলিপি নিষ্পত্তির জন্য এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হলো।

ডিএস৬

জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও আলী আমজাদ খানের সঙ্গে আগামী কাল সকাল ১০.৩০-এ আবেদনকারী দেখা করবেন। কিন্তু আবেদনকারী তাঁর আবেদনপত্রে জনাব সোহরাওয়ার্দী ও অ্যাডভোকেট জনাব আলী আমজাদ খানসহ আরও দুজন অ্যাডভোকেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চেয়েছেন। এফ.ও.পি

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৫/৭

  • আবদুস সালাম খান
  • আতাউর রহমান অ্যাডভোকেট

এসএস ৩

জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও অন্যদের সঙ্গে করে উপর্যুক্ত দুইজনের সঙ্গে সাক্ষাৎটি আগামী কাল সকাল ১০.৩০-এ মঞ্জুর করা যেতে পারে।

ডিআইজি মহোদয় দেখতে চাইতে পারেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৫/৭

২৬৯

এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর একটি আবেদন করেন যাতে তিনি তাঁকে, তাঁর জুনিয়র আলী আমজাদ খানকে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানীর সাথে তাঁদের কারাগারে অন্তরীণ থাকার আইনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সাক্ষাতের অনুমতি চান।

ঢাকা, ২১শে জুলাই ১৯৫০

রেস্ট হাউজ

ঢাকা, ২১/৭/৫০

বরাবর,

উপমহাপরিদর্শক

আইবি, ঢাকা

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমাকে, আমার অধীনস্ত জুনিয়র আলী আমজাদ খানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানীর সাথে তাঁদের কারাগারে অন্তরীণ থাকার আইনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাতের অনুমতি দিলে আমি বাধিত থাকতাম। আমি আশা করছি, ২৪শে জুলাই বিকেল ৫টায় সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

আপনার একান্ত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এইচএস সোহরাওয়ার্দী

ব্যারিস্টার এট ল

২৭২

ঢাকাস্থ আইবিইবির একজন এসআই রিপোর্ট করেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানী দুজনের অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান ও আতাউর রহমানের সাথে শীঘ্রই সাক্ষাৎ করার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল। সাক্ষাতের বিষয়টি অনুমিত হয়েছিল। একজন আইবি অফিসার সেসময় উপস্থিত ছিলেন। মামলার বিষয়ে তাঁরা দুজনে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথেই বেশির ভাগ সময় কথা বলেন।

ঢাকা, ২৯শে জুলাই ১৯৫০

ডিআইজি

আবেদনকারী আজ জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও জনাব আলী আমজাদ খানের সাথে ইতোমধ্যে দেখা করেছেন।

একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে অন্য দুজন উকিলের সাথে সাক্ষাৎটি ২৯/৭/৫০ তারিখে সকাল ৯টায় স্থির করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৬/৭

আরও সাক্ষাতের প্রয়োজন দেখা দিলে একজন অফিসারকে খুঁজে বের করতে হবে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৮/৭

ডিএস ৬

অনুগ্রহ করে একজন অফিসারকে উক্ত কাজে নিযুক্ত করা যেতে পারে। এসআই বি.রহমান, দয়া করে বিষয়টি এখনই দেখুন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৭/৭

সূত্র: নিরাপত্তা কারাবন্দি ভাসানীর মওলানা আবদুল হামিদ খান ও মুজিবুর রহমান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি তদন্তের ফলে এটি নিশ্চিত হয় যে, ম্যাসার্স অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সাথে উভয় নিরাপত্তা কারাবন্দি জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- বি. রহমান

এসআই, আইবি, ২৯/৭/৫০

ডিএস ৬

পিপি ৫৪৪এ তারিখ ডিআইজির আদেশের প্রেক্ষিতে ৫৯৬ নং পৃষ্ঠার অফিসারটির তদন্ত পর্যবেক্ষণ করে অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাতের দিনক্ষণ স্থির করুন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- প্রযোজ্য নয়

২৯/৭

এসএস ৩

একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। তাড়াতাড়ি দিনক্ষণ ঠিক করতে এবং সাক্ষাতপ্রার্থী দল ও অফিসকে বিষয়টি অবহিত করতে কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ.এ. আহমেদ

তারিখসহ স্বাক্ষর এ. হোসেন

২৯/৭

অনুগ্রহপূর্বক নিচের চিঠিটির অনুমতি প্রদান করুন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- প্রযোজ্য নয়

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ.এ. আহমেদ

৩১/৭

ডিএস৬

কারাগার থেকে আগত নিচের চিঠিটি পর্যবেক্ষণ করুন। উক্ত উদ্দেশ্যে একজন অফিসারকে অনুগ্রহপূর্বক নিযুক্ত করা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৪/৮।

রিডার এসআইকে অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ. আহমেদ, ৪/৮

এসএস৩

ভাসানী মওলানা ও মুজিবুর রহমানের সাথে জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দীর ২৬/৭/৫০ তারিখে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের সময়ে আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি বেশির ভাগ সময় মুজিবুর রহমানের সাথেই তাঁর বিরুদ্ধে আনীত মামলার প্রসঙ্গে কথা বলেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- আই রহমান

৩১/৭

২৭৩

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীর নিকট থেকে আসা ১৯/৭/১৯৫০ তারিখের আবেদনপত্রের অনুলিপিগুলো প্রেরণ করেন। উভয় আবেদনকারীর সাথে জনাব এইচএস সোহরাওয়ার্দী ও আলী আমজাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল ২৬/৭/১৯৫০ তারিখে।

ঢাকা, ১লা আগস্ট ১৯৫০

পূর্ববঙ্গের ফর্ম নং ৫

অতিরিক্ত

পূর্ববঙ্গ সরকার

পুলিশের মহাপরিদর্শকের অফিস

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

পূর্ববর্তী যোগাযোগের নম্বর, তারিখ ও বিষয় সব যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রদান করতে হবে।

স্মারক নং ১৬২১৯/৪৮৩-৪৮ পিএফ(এন.ইউ.)/ তারিখ ঢাকা ১/৮/১৯৫০।

গোপনীয়

বরাবর,

জনাব এ.এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা

নিরাপত্তা কারাবন্দি মওলানা আবদুল হামিদ খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯/৭/৫০ তারিখের আবেদনের কপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে আমার বক্তব্য হচ্ছে, উভয় আবেদনকারীর সঙ্গে ম্যাসার্স এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও আলী আমজাদের ২৬/৭/৫০ তারিখে দেখা হয়েছে।

  1. ম্যাসার্স আবদুস সালাম খান ও আতাউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে পূর্বে দিনক্ষণ নির্ধারিতকরণের ভিত্তিতে প্রদান করা যেতে পারে।
  2. সাক্ষাৎপ্রার্থী দলটি ও এই অফিসকে দিনক্ষণের বিষয়টি অবহিত করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ.এ. আহমদ

ঢাকা আইবিইবির উপমহাপরিদর্শকের পক্ষে

(এ.কে.এম. হাফিজউদ্দীন)

২৭৪

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান ও আতাউর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট অবহিত করেন যে, তাঁরা নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীর সঙ্গে ৮/৮/১৯৫০ তারিখে একটি সাক্ষাতের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ঢাকা, ৩রা আগস্ট ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

নং ১৩১৯ ও ১৩২০/এসবি, তারিখ ৩/৮/৫০

বরাবর,

এম/এস

  • আবদুস সালাম খান
  • আতাউর রহমান অ্যাডভোকেট, ঢাকা

এই অফিসে এই পত্রটি প্রদর্শনপূর্বক ৮/৮/৫০ তারিখ সকাল ১০টায় নিরাপত্তা কারাবন্দি (১) মওলানা আবদুল হামিদ খান (ভাসানী) ও (২) শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি এতদ্বারা অনুমতি প্রদান করা যাচ্ছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট

উক্ত সাক্ষাৎটি তদারক করার জন্য একজন আইবি অফিসারকে নিয়োগ করতে ম্যামো নং ১৬২১৯, তারিখ ১/৮/৫০-এর বরাত দিয়ে ঢাকার আইবির পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

২৭৬

শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্রিফ হিস্টোরিতে তৃতীয় সংযোজন ৭/৮/১৯৫০ তারিখে ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজিকে পেশ করা হয়। উক্ত সংযোজনে তাঁর মামলার রেফারেন্স, গ্রেপ্তারি ও অন্তরীণ করে রাখার জন্য সিনিয়র অফিসারদের সুপারিশ প্রভৃতি উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা, ৭ই আগস্ট ১৯৫০

ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র, ঢাকার ৬৯/১ খাজে দেওয়ান নিবাসী ১৫০ মোঘলটুলি নিবাসী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্রিফ হিস্টোরিতে তৃতীয় সংযোজন 

  1. মুজিবুর রহমান ২৯/৪/৪৯ তারিখে গ্রেপ্তার হন এবং ১৬/৩/৫০ তারিখের সরকারি আদেশ নং ৮৮১-এইচ.এস. অনুসারে নিরাপত্তা কারাবন্দি হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ আছেন।
  2. উক্ত ব্যক্তিটি আইপিসির ১৪৯/৩২৫ ধারা ও এসপিওর ৭(৩) ধারা মোতাবেক দায়ের করা কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯ এবং আইপিসি ১৪৩/১৮৮ ধারা মোতাবেক দায়ের করা গোপালগঞ্জ থানার ১৮/৭/৪৮ তারিখের মামলা নং ১১-এর অভিযুক্ত ব্যক্তি। ইতোমধ্যে উভয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। মামলা দুটোর বিচারাধীন।
  3. গোয়েন্দা বিভাগের একজন অফিসার ১৫/৭/৫০ তারিখে তাঁর সাথে দেখা করেছিলেন। অফিসারটি তাঁর আচরণ অনমনীয় হিসেবে শনাক্ত করেন। মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি পেতে তিনি আগ্রহী নন।
  4. ঢাকাস্থ ডিআইবি পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্টের বর্ণনা মতে, উক্ত ব্যক্তির রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকার ডিআইবি পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট ও ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও অতিরিক্ত ৬ মাসের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখার সুপারিশ করছেন।
  5. ফরিদপুর পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট ৬ই জুলাই রিপোর্ট করেন যে, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের যুদ্ধংদেহি এই সদস্যের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। সুপার ইনটেনডেন্ট তাঁকে আরও আটকে রাখার সুপারিশ করেন। তিনি আরও বলেন যে, ভালো ব্যবহার করার বন্ড দিলে উক্ত ব্যক্তি কারাবাস থেকে মুক্তি পেতে পারে। ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জেলায় আওয়ামী মুসলিম লীগের কর্মকাণ্ড সবে শুরু হয়েছে। তিনি নিশ্চিত নন যে, এই সংগঠনটি কতখানি পাকিস্তানবিরোধী। সুতরাং এই মামলার বিষয়ে তাঁর বিশেষ বলার কিছু নেই।
  6. উক্ত ব্যক্তি এ.এম.এলের যুগ্ম সম্পাদক ও সবচেয়ে যুদ্ধংদেহি সদস্য। এই ব্যক্তির আটক ১৫/৯/৫০ তারিখে সমাপ্ত হলে আমার সুপারিশ থাকবে তাঁকে আরও ৬ মাসের জন্য যেন আটক রাখা হয়।

ও/সি তারিখসহ স্বাক্ষর এ.কে.এম. এইচ. ৭/৮/৫০

পুলিশের মহাপরিদর্শক

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

ঢাকা

২৭৭

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মামলার রিভিউ বিষয়ে ঢাকার পূর্ববঙ্গ স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগের ডিএসকে একটি গোপন ম্যামো পাঠান।ডিআইজি বলেন যে, এসপিওর অধীনে আরও ৬মাসের জন্য তাঁকে আটকে রাখতে ঢাকার ডিএম সুপারিশ করেছেন। তিনি ডিএমের সাথে একমত পোষণ করেন।

ঢাকা, ৮ই আগস্ট ১৯৫০

গোপনীয়

আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

নং ১৬৭৩৯/৬০৬-৪৮ পিএফ/তারিখ ৯/৮/১৯৫০

বরাবর,

পূর্ববঙ্গ সরকারের উপসচিব

স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগ, ঢাকা

বিষয়: জুন ১৯৫০-এর সমাপ্তিতে লুৎফর রহমানের পুত্র নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মামলার রিভিউ।

উপর্যুক্ত বিষয়ে আটকের কারণগুলোর খসড়ার ৭টি অনুলিপিসহ সিলমারা একটি খামে নিম্নলিখিত ডকুমেন্টগুলোর একটি অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে বিনীত নিবেদন এই যে, বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশের অধীনে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে আরও ৬মাসের জন্য অন্তরীণ করে রাখার সুপারিশ করেছেন। আমি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে একমত।

***

  • বিএইচ-এ তৃতীয় সংযুক্তি
  • বিএইচ ও তার পূর্ববর্তী সংযুক্তিগুলো সারমর্মে রয়েছে

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এসএস৩

গোয়েন্দা বিভাগের

পুলিশের উপপমহাপরিদর্শকের পক্ষে

ম্যামো নং জি১৬৭৩৯/১/৬০৬-৪৮ পিএফ, তারিখ ৯/৮/৫০

অবহিতকরণের জন্য তৃতীয় সংযুক্তির একটি অনুলিপিসহ একটি অনুলিপি ঢাকাস্থ ডিআইবি পুলিশের অতিরিক্ত এসপিকে প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৮/৮

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

আইবিইবি, ঢাকা

পার্শ্বটীকা: জারি হয়েছে, অনুগ্রহপূর্বক স্বাক্ষরের জন্য ডিআইজি বরাবর উপস্থাপন করতে খসড়া সংযুক্তিটি পি ৫৯১-এ রাখতে হবে।

২৭৮

ঢাকাস্থ আইবিইবির একজন এসআই রিপোর্ট করেন যে, ৮/৮/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীর সাথে তাঁদের আইনজীবী আতাউর রহমানের সাক্ষাতের সময়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। মামলার আইনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

ঢাকা, ৯ই আগস্ট ১৯৫০

ডিএস২

আমি আদিষ্ট হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৮/৮/৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁদের আইনজীবী মৌলভী আতাউর রহমানের সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত ছিলাম।

১৯/৮/৫০ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য মামলার শুনানির বিষয়ে কিছু আইনি ব্যাপার নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। আপত্তিকর কিছু তাঁদের মধ্যে আলোচিত হয়নি।

পেশকৃত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. হুসাইন, এসআই

৯/৮/৫০

২৭৯

ঢাকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের হাবিবুর রহমান ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি বরাবর একটি আবেদন করেন যাতে তিনি বলেন যে, তিনি তাঁর ভাইপো শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১৮/৮/১৯৫০ তারিখে দেখা করতে চান। সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করে ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি আবেদনপত্রটির অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট বরাবর প্রেরণ করেন।

ঢাকা, ১৬ই আগস্ট ১৯৫০

১৬ই আগস্ট ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি, আইবি, ঢাকা

ওয়াইজঘাট, ঢাকা

জনাব,

সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আমার ভাইপো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১৮ই আগস্ট ১৯৫০ তারিখে বেলা ৩.৩০-এ দেখা করতে চাই। আমি তার ব্যাপারে খুব চিন্তায় আছে। কারণ গত দুই মাসে আমি তাকে দেখিনি।

অতএব আপনার নিকট আমার বিনীত অনুরোধ, আমাকে উক্ত মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাতে অনুমতি প্রদান করতে জনাবের যেন আজ্ঞা হয়।

নিবেদক,

আপনার একান্ত বাধ্যগত

এইচ. রহমান

(হাবিবুর রহমান)

ইস্ট পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল

কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা

গোপনীয়

পূর্ববঙ্গ গোয়েন্দা বিভাগ

৭, ওয়াইজ ঘাট

ঢাকা, ১৯৫০

নং ১৭২৩৬/৬০৬-৪৮ (এন.ইউ.) (সেক)/ তারিখ ২১/৮/১৯৫০

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

এতদ্‌সঙ্গে হাবিবুর রহমানের ১৬/৮/৫০ তারিখের একটি আবেদনপত্র প্রেরণ করি আমার নিবেদন এই যে, আপনি দিনক্ষণ ঠিক করে একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

দিনক্ষণটির বিষয়ে সাক্ষাৎপ্রার্থী দল ও অফিসকে অনুগ্রহপূর্বক অবহিত করুন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ১৯/৮

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক

গোয়েন্দা বিভাগ

২৮০

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট হাবিবুর রহমানকে অবহিত করেন যে, তিনি ১/৯/৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেয়েছেন।

ঢাকা, ২৮শে আগস্ট ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

সুপার ইনটেনডেন্টের সরকার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১৪১৭/এসবি, তারিখ ২৮/৮/৫০

বরাবর,

জনাব হাবিবুর রহমান

পূর্ব পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি, ঢাকা

এই অফিসে এই চিঠিটি প্রদর্শনপূর্বক ১/৯/৫০ তারিখে সকাল ১১টায় নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আপনাকে এতদ্বারা সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা হচ্ছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ.এম. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট,

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ম্যামো নং ১৪১৮/এসবি, তারিখ ২৮/৮/৫০

এই সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে একজন আইবি অফিসারকে নিয়োগ করতে অনুমতি চেয়ে ২১/৮/৫০ তারিখের তাঁর ম্যামো নং ১৭২৩৭/৬-৬০৬-৪৮ (এন.ইউ.)-এর বরাত দিয়ে ঢাকার আইবি পুলিশের ডিআইজিকে প্রেরণ করেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৮/৮/৫০

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

ডিএস২

আদেশ মোতাবেক ১/৯/৫০ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর আত্মীয় হাবিবুর রহমানের মধ্যকার সাক্ষাৎটি অনুমোদিত হয়েছে।

তাঁরা পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আপত্তিকর কিছু নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেননি।

পেশকৃত

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২/৯

২৮১

খুলনার ডিআইবি ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপিকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, খুলনাতে আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব নেই। অবশ্য গত বছর শেখ মুজিবুর রহমান এখানে এসেছিলেন এবং আওয়ামী লীগের একটি শাখা গঠন করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। স্থানীয় এমএল নেতৃবৃন্দ তাঁকে অসন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন।

খুলনা, ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৫০

গোপনীয়

ডিআইবি, খুলনা, ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৫০

নং ৫৪২৪/৪০-৫০, পি ৪১

বরাবর,

জনাব এ. হুসাইন

এসএসপি, আইবি, ঢাকা

সূত্র: আপনার ম্যামো নং ১৪৭২৩(১৭)/১২৫-৫০ সাধারণ, তারিখ ৩/৭/৫০ এবং রেডিয়োগ্রামের মাধ্যমে পরবর্তী রিমাইন্ডারগুলো।

আওয়ামী লীগ

এই জেলায় আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব নেই। গত বছর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান এই জেলায় এসেছিলেন এবং আওয়ামী লীগের একটি শাখা গঠন করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এমএলএ আবদুস সবুর এবং সম্মাননীয় ম্যাজিস্ট্রেট এসএমএ মজিদের মতো স্থানীয় এমএল নেতৃবৃন্দ তাঁকে অসন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর চেষ্টা আলোর মুখ দেখেনি।

২৮২

ঢাকাস্থ ডিআইবির একজন ওয়াচার কন্সটেবল শামসুল হকের ওপরে একটি ওয়াচ রিপোর্ট জমা দেন যাতে তিনি বলেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ৪/৯/১৯৫০ তারিখে বার লাইব্রেরি ও কোর্ট লক-আপে গিয়েছিলেন। কয়েকজন অপরিচিত নিরাপত্তা কারাবন্দির সাথে তিনি কথা বলেছিলেন এবং নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় কোর্টে হাজিরা দিয়েছিলেন।

ঢাকা, ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

সি.আর., তারিখ ৪/৯/৫০

দায়িত্বপালনের সময় ১০.০০-১৪.০০ এবং ১৮.০০-২২.০০

সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম: শামসুল হক, এম.এল.এ.

সন্দেহভাজন ব্যক্তির আবাস: ৩২ পন্নিটোলা

ওয়াচের ফলাফল

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি তাঁর আবাসস্থল থেকে আনুমানিক সকাল ১০.৩০ নাগাদ বের হয়ে একটি রিকশায় চড়ে বার লাইব্রেরিতে যায়। রিকশাটির নম্বর ৯৮১। সেখান থেকে সকাল ১১.০০ টায় একই রিকশায় করে তিনি কোর্টের লক-আপে যান এবং কয়েকজন অপরিচিত নিরাপত্তা কারাবন্দির সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই তিনি ২.৩৫ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এরপর ২.৪৫-এ তিনি তাঁর বাসায় রিকশা করে ফিরে আসেন। এই রিকশার নম্বর ১০৮৪। আমি তাঁকে রিকশা নং ১৩৭৮ ও ৫৮০ করে অনুসরণ করি।

সন্ধ্যার সময়ে তাঁকে নিজের বাসাতেই থাকতে দেখা যায়। সন্দেহভাজন কাউকে তাঁর বাসায় আসতে দেখা যায়নি।

বদলি:  ১০.০০ ও ১৮.০০টায় এ.এস.আই. আলফাজুদ্দীনকে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করি এবং এ.এস.আই. আলফাজুদ্দীন ও ডব্লিউ.সি. কে.এন. হকের নিকট থেকে ১৪.০০ টায় দায়িত্ব গ্রহণ করি।

সহকর্মী: সি.এস.ও.-র ডব্লিউ.সি. লস্কর খান

জমাকৃত,

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ডব্লিউ.সি. এ. সাত্তার

৫/৯/৫০

নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানী এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় তিনি কোর্টে হাজিরা দেন। সেখানে তিনি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। মওলানা ভাসানীকে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জন্য কারাগারে আনা হয়নি। শুনানি মুলতবি করা হয়।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এসআই ৫/৯

বন্দিরা যখন কোর্টে হাজিরা দেয় তখন কোনো ওয়াচ ছিল কি না তা অবহিত করতে ঢাকার এডিশনাল এসপিকে অনুরোধ করা হয়েছে। এসএস৩ দেখতে পারেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ.এ.এ.

৭/৯

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. হুসাইন

৮/৯

পার্শ্বটীকা: ও/সি ওয়াচ, কেন ডব্লিউ/সি অপরিচিত নিরাপত্তা কারাবন্দিদের ডি.আর. সরবরাহ করেননি, ডব্লিউ.সি. কীভাবে জানলেন যে তাঁরা নিরাপত্তা কারাবন্দি, তারিখসহ স্বাক্ষর/- কিউ.এ.এ. ৫/৯

এস.ও.কে অনুগ্রহপূর্বক এখনই সি.এস.আই. থেকে খবর নিন যে নিরাপত্তা কারাবন্দি কে ছিল? তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. রাজ্জাক, ও/সি ৫/৯

২৮৩

ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি গোপন একটি ম্যামোর মাধ্যমে ঢাকাস্থ আইবিইবির এসএসপিকে একজন আইবি অফিসারের রিপোর্টের একটি অনুলিপি ফেরত পাঠাতে অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য উক্ত আইবি অফিসার ফরিদপুর কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যদের ইন্টারভিউ করেছিলেন। জেলার নিরাপত্তা কারাবন্দিদের নিয়ে ত্রৈমাসিক রিভিউ পাঠাতে রিপোর্টটির প্রয়োজন ছিল।

ফরিদপুর, ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

আসল

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ফরিদপুর, ৯ই সেপ্টেম্বর ৫০

নং ৩৮৮৫/১৩-৪১

গোপনীয়

বরাবর,

জনাব এ. হুসাইন

বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট, পুলিশ

আইবি, পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

আইবির একজন অফিসার সম্প্রতি ফরিদপুর কারাগারে নিরাপত্তা কারাবন্দিদের ইন্টারভিউ করেছিলেন। অনুগ্রহ করে সেই রিপোর্টের এক কপি যদি আমাকে প্রেরণ করতেন। এই জেলার নিরাপত্তা কারাবন্দিদের ত্রৈমাসিক রিভিউ পাঠাতে এই অফিসের তা দরকার ছিল।

নিম্নলিখিত নিরাপত্তা কারাবন্দিদের যাদের কেউ কেউ এখন অন্য কোথাও বন্দি আছেন তাদের ইন্টারভিউ রিপোর্ট এই অফিসে শীঘ্রই পাঠিয়ে দেওয়াও যেতে পারে।

১. আশুতোষ ভরদ্বাজরাজশাহী জেল
২. সমরেন্দ্রনাথ সিং 
৩. সত্য রঞ্জন মিত্র 
৪. প্রফুল্ল রায় কর্মকার 
৫. ফণীভূষণ মজুমদারঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
৬. শেখ মুজিবুর রহমান 
৭. আবু আজহার ম. আবদুল হাই 
৮. আবু মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান 

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এস. হক ৯/৯

পুলিশের সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ফরিদপুর

২৮৪

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব কর্তৃক ১৬/৯/১৯৫০ তারিখে অনুমোদিত শেখ মুজিবুর রহমানের আরও আটকাদেশ। সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন এবং জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে প্রতিরোধ করাই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন। বিএসপিও ১৯৪৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাঁর আটক বহাল রাখার জন্য আদেশ জারি করাই এ লক্ষ্যে জরুরি ছিল।

ঢাকা, ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র বিভাগ

বিশেষ শাখা

আদেশ

নং ২১৪৩-এইচ.এস.

তারিখ, ঢাকা, ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

যেহেতু ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র, ১৫০ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়ান নিবাসী শেখ মুজিবুর রহমান বলে পরিচিত এই ব্যক্তিটি ১৬ই মার্চ ১৯৫০ তারিখের আদেশ নং ৮৮১-এইচএস-এর অধীনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন

এবং যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয় বিবেচনা করে সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট যে, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে ও শৃঙ্খলায় ব্যত্যয় ঘটাবে এমন কোনো হানিকর কাজ থেকে তাঁকে বিরত রাখার লক্ষ্যে তাঁর কারাবরণ দীর্ঘায়িত করতে নিচের আদেশটি জারি করা জরুরি।

এখন, East Bengal Ordinances Temporary Enactment and Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৪৬ (Bengal Ordinance, ১৯৪৬-এর VI)-এর ১০ক ধারার উপধারা (১) ও (৪)-এর অনুচ্ছেদ (ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ নির্দেশ প্রদান করছে যে,

ক. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তিকে উল্লিখিত অধ্যাদেশের ১০খ ধারার বিধান সাপেক্ষে আটক রাখা হবে;

খ. এই অনুচ্ছেদের (ক) ধারার বিধান সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকবেন।

গ. এই আটকাবস্থায় উক্ত ব্যক্তি পূর্ববঙ্গ নিরাপত্তা কারাবন্দি বিধি ১৯৫০-এ বর্ণিত শর্তাবলির অধীন হবেন।

সরকারের নির্দেশক্রমে

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা আইন অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারা মোতাবেক নিম্নস্বাক্ষরকারী ব্যক্তি এতদ্‌সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে একটি বার্তা (অনুলিপি) প্রেরণের জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বার্তাটি সরবরাহ করতে এবং তদ্‌পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে তা সরকারকে অবহিত করতে আপনাকে যেন অনুরোধ করা হয় সে জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারাবন্দির কোনো প্রতিবাদ থাকলে তা শীঘ্রই সরকার বরাবর পাঠিয়ে দিতে আপনাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (Bengal Ordinance, ১৯৪৬-এর VI)-এর ১০গ ধারার অনুযায়ী কারাগারে আটকে রাখার কারণসমূহ সম্বলিত যোগাযোগ।

East Bengal Ordinances Temporary Re-enactment Act 1950 (যা ১৯৫০-এর East Bengal Act VI নামে পরিচিত) অনুযায়ী পাশ হওয়া ও বহাল থাকা পূর্ববঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ, ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০গ ধারার অনুযায়ী ফরিদপুরের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র এবং ১৫০ মোঘলটুলি ও ৬৯/১ খাজে দেওয়ান ঢাকা নিবাসী আপনি মৌলভী শেখ মুজিবুর রহমান উপর্যুক্ত অধ্যাদেশের ১০ক ধারার উপধারা (১) ও উপধারা (৪)-এর ক্লজ নং (ক) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত ১৬/৯/১৯৫০ তারিখের আদেশ নং ২২৪৩-এইচএস অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন এবং আপনাকে এতদ্বারা অবহিত করা হচ্ছে যে, নিম্নলিখিত কারণে আপনাকে আটক রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে:-

  • ঢাকা, ফরিদপুরসহ পূর্ববঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায় আপনি এমন একটি গোপন সংস্থার সাথে বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এখনও আছেন যার উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারকে (পূর্ববঙ্গ সরকার) উৎখাত করা। ১৯৪৭ (দেশভাগের পরে), ১৯৪৮ ও ১৯৪৯ সালে আপনি ঢাকা, ফরিদপুর, পাবনা ও বাকেরগঞ্জ জেলায় অহিতকর কিছু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে পূর্ববঙ্গ সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করাই ছিল এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহ, ১৯৪৮ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে এবং ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে কিছু সরকার বিরোধী ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে আপনি ঢাকা শহর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর শহর, নরসিংদী ও অন্য এলাকার ছাত্র ও মুসলিম জনতার মধ্যে ক্ষতিকর ও সংহতিনাশক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং পূর্ববঙ্গে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে তাদেরকে ইন্ধন যুগিয়েছেন। কিছু বিভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলে সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মানুষের অনুমাননির্ভর কথা বলে পূর্ববঙ্গের সরকারের নামে বদনাম করেছেন আপনি। উল্লিখিত এসব বিষয়ের অতিরিক্ত ঘটনা ও বিশেষ কিছু জননিরাপত্তার বিরুদ্ধে যাবে।
  • উপর্যুক্ত সমস্ত কর্মকাণ্ড এই প্রদেশের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরূপ।
  • আপনাকে আরও অবগত করা হচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধে করা কারাবরণের আদেশের প্রতিবাদ করে সরকারকে লেখার অধিকার আপনার রয়েছে এবং সে রকম করতে যদি আপনি ইচ্ছে করেন তবে নিম্নে স্বাক্ষরকারী অফিসারের কাছে বর্তমানে আপনি যেখানে অন্তরীণ রয়েছেন অর্থাৎ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিবাদ লিখে প্রেরণ করতে পারেন।

সরকারের আদেশে

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

স্বরাষ্ট্র (বিশেষ) বিভাগ

২৮৫

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব বিএসপিও ১০ক ধারায় শেখ মুজিবুর রহমানের আটক আদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো পাঠান। আদেশ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ও যথাসময়ে সরকারকে অবহিত করতে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

গোপনীয়

জরুরি

পূর্ববঙ্গ সরকার

স্বরাষ্ট্র বিভাগ

বিশেষ শাখা

প্রেরক: মৌলভী এম, ফজলুল বারি, সহকারী সচিব, পূর্ববঙ্গ সরকার

প্রাপক: সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

স্মারক নং ২১৪২-এইচএস, তারিখ ঢাকা ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

বিষয়: বঙ্গের বিশেষ ক্ষমতা অধ্যাদেশ ১৯৪৬ (১৯৪৬-এর Bengal Ordinance VI)-এর ১০ক ধারা মোতাবেক শেখ মুজিবুর রহমানের আটক।

উপর্যুক্ত বিষয়ে স্বাক্ষরিত একটি আদেশ (অনুলিপি) এবং উক্ত অধ্যাদেশের ১০ক ধারা অনুযায়ী আটকের কারণসমূহ উল্লেখপূর্বক যোগাযোগ (অনুলিপি) এতদ্‌সঙ্গে প্রেরিত হলো।আদেশ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, উপরে লিখিত নামের ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে এবং যথাসময়ে সরকারকে অবহিত করতে আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

  1. নিরাপত্তা কারাবন্দি কর্তৃক যদি কোনো প্রতিবাদ করা হয়ে থাকে তবে তা সরকারকে প্রেরণ করতে আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এম.এফ. বারি

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

অনুলিপি, আদেশ ও যোগাযোগের অনুলিপির সঙ্গে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে:-

  • মহাকরাপরিদর্শক, পূর্ববঙ্গ
  • উপ মহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ
  • জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা
  • উপপরিচালক, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, পাকিস্তান সরকার, ৮ কুমারটুলি লেন, ঢাকা

ঢাকা

১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৫০

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

পূর্ববঙ্গ সরকারের সহকারী সচিব

ম্যামো নং ১৮৫৯৯/৬০৬-৪৮ পিএফ তারিখ ২৫/৯/৫০

অনুলিপি, আটকের জন্য জিওর অনুলিপির সঙ্গে। অবহিতকরণের জন্য ঢাকাস্থ ডিআইবির অতিরিক্ত এসপিকে প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ডিএস ৬, এসএস ৩

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২১/৯

২৮৬

ঢাকাস্থ ডিআইবির অতিরিক্ত এসপি ২৭/৯/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের ইন্টারভিউ বিষয়ে ঢাকার আইবিইবির এসএসপিকে একটি ম্যামো প্রেরণ করেন।ইন্টারভিউর সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান একজন ডিআইওকে বলেন যে, সাংবিধানিক রীতি মেনে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চান কিন্তু তাঁর মুক্তিকে প্রভাবিত করতে কোনো মুচলেকা দিতে রাজি নন। আরও ৬মাসের জন্য তাঁকে আটক রাখা অতি জরুরি বলে সুপারিশ করা হয়।

ঢাকা, ২৭শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা বিভাগ

ঢাকা, ২৭শে সেপ্টেম্বর ‘৫০

নং ৯২২২/১০০-৪৯

গোপনীয়

বরাবর,

জনাব টি. আহমদ, পিএসপি

পুলিশের বিশেষ সুপার ইন্টেনডেন্ট, গোয়েন্দা বিভাগ

পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

সূত্র: ৩০শে সেপ্টেম্বর ‘৫০ তারিখে ত্রৈমাসিক সমাপ্তি উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা কারাবন্দি মুজিবুর রহমান শেখের মামলাটির রিভিউ প্রসঙ্গে আইবি নং ৩৭৫৪(১৭)৩৭৫-৫০, তারিখ ২৮/২/৫০

একজন ডিআইও ১৯/৯/৫০ তারিখে উক্ত ব্যক্তির ইন্টারভিউ করেন। তিনি বলেন যে, সাংবিধানিক রীতি মেনে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চান কিন্তু তাঁর মুক্তিকে প্রভাবিত করতে কোনো মুচলেকা দিতে তিনি রাজি নন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সৎ থাকেন তাহলে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণ থাকে না। আইপিসির ১৪৭ ধারায় পরিচালিত কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১৯(১০)৪৯-এর বিচারে তিনি আসামী এবং ১২/৯/৫০ তারিখে ৩মাসের জন্য আরআই সাজাপ্রাপ্ত। আরও ৬মাসের জন্য তাঁকে আটক রাখা অতি জরুরি বলে সুপারিশ করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হলে তিনি মুক্তির পরে সমস্যা করবেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য আরও ৬মাসের জন্য তাঁকে কারাগারে আটক করে রাখা অতীব জরুরি বলে বিবেচিত হচ্ছে। ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও সুপারিশটি অনুমোদন করেছেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২৮/৯

পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ঢাকা

২৮৯

গিমাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পক্ষ থেকে সরোয়ার নামের জনৈক ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানকে যে পত্রটি প্রেরণ করেন তার সেন্সর সার্টিফিকেটের মন্তব্য। সেন্সর অফিসার মন্তব্য করেন যে, যেহেতু পত্রটিতে যা লেখা আছে তা ব্যক্তিগত বিষয়ের সীমা অতিক্রম করেছে তাই এটি আটকে রাখা যাবে।

ঢাকা, ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

সেন্সর সার্টিফিকেট

নং ২৪২ বি(১)

চিঠির তারিখ-

চিঠি আসার তারিখ- ২৮/৯/৫০

প্রেরক: ছাত্রবৃন্দ (সরোয়ার)

প্রাপক: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান, নিরাপত্তা অভিযুক্ত

ম্যামো: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ৪৪২৩/এবি তারিখ ২৭/৯/৫০

সেন্সর অফিসের মন্তব্য, অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

যেহেতু পত্রটিতে যা লেখা আছে তা ব্যক্তিগত বিষয়ের সীমা অতিক্রম করেছে তাই এটি আটকে রাখা যেতে পারে।

প্রস্তাবিত অনুসারে

আবু নাসর

২৯/৯

২৯০

ঢাকাস্থ আইবির ডিআইজি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট বরাবর এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও অন্য ২জনের করা ২৭/৯/১৯৫০ তারিখের একটি আবেদনের অনুলিপিসহ একটি গোপন ম্যামো পাঠান। তিনি অবহিত করেন যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্থিতিতে ১/১০/১৯৫০ তারিখে সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

ঢাকা, ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

গোপনীয়/জরুরি

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭, ওয়াইজ ঘাট রোড,

ঢাকা, ২৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

নং ১৮৮০৬/৪৮৩-৪৮পিএফ

বরাবর,

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

এতদ্‌সঙ্গে জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী, বার এট ল ও অন্য দুজনের ২৭/৯/৫০ তারিখে করা আবেদনপত্র প্রেরণ করে আপনাকে অবহিত করার জন্য আমার বিনীত নিবেদন এই যে, একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে ১/১০/৫০ তারিখ সকাল ১০.০০টায় সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

আবেদনকারীদের সেভাবে অবহিত করা হচ্ছে।

(এ.কে.এম. হাফিজউদ্দীন)ষে

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, আইবি

-র পক্ষে

গোপনীয়/জরুরি

ম্যামো নং ১৮৮০৬/১/৪৮৩-৪৮ পিএফ, তারিখ ২৯/৯/৫০

ম্যাসার্স এইচএস সোহরাওয়ার্দী, বার এট ল, অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ খান ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, ১৬ খাজে দেওয়ান (১ম লেন) ঢাকাকে তাঁদের ২৭/৯/৫০ তারিখের আবেদনের বরাতে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

ইন্টিরভিউতে কেবল আইনি নির্দেশনা বিষয়ে আলোচনা হবে। অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।

(এ.কে.এম. হাফিজউদ্দীন)ষে

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, আইবি

-র পক্ষে

২৯১

শেখ হাবিবুর রহমান ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজিকে ৩০/৯/১৯৫০ তারিখে আবেদন করেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাসহ তাঁর ভাইপো নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ৬ই অক্টোবর ১৯৫০ তারিখে সাক্ষাৎ করতে চান।

ঢাকা, ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি (আইবি) ঢাকা

তারিখ, ঢাকা, ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমার স্ত্রী ও কন্যাসহ ভাইপো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ৬ই অক্টোবর ১৯৫০ তারিখে সকাল ৯ থেকে ১০টায় আমি সাক্ষাৎ করতে চাই।

অনুগ্রহ করে উক্ত প্রার্থীত সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করে ও যথাবিহিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাকে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

এইচ. রহমান

(শেখ হাবিবুর রহমান)

ইস্ট পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল

কো-অপারেটিভ ব্যাংক

ভিক্টারিয়া পার্ক, ঢাকা

২৯২

ফরিদপুরের ডিআইবির এসপি বিবৃতি দেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান ইবিএএমএলের যুগ্ম সম্পাদক এবং এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দীর অন্ধ ভক্ত। যদিও তাঁর কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক, ফরিদপুরেও তিনি তাঁর কার্যক্রম চালিয়েছেন। তাঁকে আরও ৩মাসের জন্য কারাবন্দি করে রাখতে এসপি সুপারিশ করেন।

ফরিদপুর, ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৯৫০

আওয়ামী মুসলিম লীগ

  • ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ থানার টুঙ্গিপাড়া নিবাসী লুৎফর রহমানের পুত্র এবং ঢাকা নিবাসী শেখ মুজিবুর রহমান।

উক্ত ব্যক্তি পূর্ববঙ্গ আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং জনাব সোহরাওয়ার্দীর অন্ধ ভক্ত। বিরোধী দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতাও তিনি। উক্ত শক্তিবলে তিনি ঢাকাতে ও এই জেলায় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন জনসভা ও মিছিল করে যথেষ্ট কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেছেন। ঢাকা পুলিশ তাঁকে ৩১/১২/৪৯ তারিখে গ্রেপ্তার করে এবং তখন থেকে নিরাপত্তা কারাবন্দি হিসেবে তিনি জেলে অন্তরীণ রয়েছেন। যদিও তাঁর কর্মকাণ্ড প্রধানত ঢাকাতে সীমাবদ্ধ তবুও এখানেও তাঁর কর্মকাণ্ড রয়েছে। আওয়ামী মুসলিম লীগের স্থানীয় কিছু সদস্য এখানে লীগের একটি শাখা খুলতে সচেষ্ট এবং যদি উক্ত নিরাপত্তা কারাবন্দি এখন মুক্তি পান তবে তিনি এসেই এদের সঙ্গে কাজে নেমে পড়বেন। এমনটা হলে সরকারের ক্ষতি হবে। তা-ই আরও ৩মাসের জন্য তাঁকে অন্তরীণ করে রাখার সুপারিশ করছি।

পার্শ্বটীকা: উপরের অংশে আমি আমার মন্তব্য পেশ করে দিয়েছি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এস.এ.এফ.এ. সোবহান

ডি.এম.

৩০/৯/৫০

২৯৪

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিএস৩ রিপোর্ট করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা ভাসানীর সাথে এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও ২জন ব্যক্তির সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত সময়ে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু সাক্ষাৎকারী দলটি আসেননি তাই তা হয়ওনি।

ঢাকা, ২রা অক্টোবর ১৯৫০

এসএস ৩

মওলানা আবদুল হামিদ খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে জনাব এইচ.এস. সোহরাওয়ার্দী ও ২জন অ্যাডভোকেটের ১/১০/৫০ তারিখে (গত কাল) সাক্ষাতের সময়ে আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত ছিলাম। যেহেতু সাক্ষাৎকারী দলটি আসেননি তাই তা হয়ও নি।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- কে.টি. আহমদ

ডিএস ৩

২/১০/৫০

কত সময় ধরে আপনি তাঁদের ওখানে ছিলেন?

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. হুসাইন

আমি সকাল ৯.৩০-এ কারাগারে পৌঁছাই এবং ১১টায় সেখান থেকে আসি।

তারিখসহ স্বাক্ষর কে.টি. আহমদ

২/১০/৫০

ফাইল। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২/১০

২৯৫

ঢাকা ডিআইবির অতিরিক্ত এসপি ঢাকা আইবিইবির এসএসপিকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দিদের বিরুদ্ধে বিশেষ মামলার বিচারে সাধারণত ওয়াচ রাখা হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে সময়মতো বিচারের তারিখের তথ্য না পাওয়ায় কিছু বাদ পড়ে যায়। ওয়াচের স্বার্থে এরূপ বিচারের মামলার তারিখের তথ্য সময়মতো পেতে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

ঢাকা, ২রা অক্টোবর ১৯৫০

জেলা গোয়েন্দা শাখা

ঢাকা, ২রা অক্টোবর/৫০

নং ৯৪৩৩/আর ৭৩৬১/২১৪-৪৯

গোপনীয়

বরাবর,

জনাব এ হুসাইন,

পুলিশের বিশেষ সুপার ইনটেনডেন্ট, গোয়েন্দা বিভাগ

পূর্ববঙ্গ, ঢাকা

সূত্র: আপনার নং ১৮৬০১/৬০৬-৪৮ পি.এফ. (এন.ইউ.), তারিখ ২৫/৯/৫০।

নিরাপত্তা কারাবন্দিদের বিরুদ্ধে বিশেষ মামলার বিচারে সাধারণত ওয়াচ রাখা হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে সময়মতো বিচারের তারিখের তথ্য না পাওয়ায় কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। ওয়াচের স্বার্থে এরূপ বিচারের মামলার তারিখের তথ্য সময়মতো পেতে কোর্ট ইন্সপেক্টর ও জেলের সুপার ইনটেনডেন্টের সাথে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ২/১০

পুলিশের অতিরিক্ত সুপার ইনটেনডেন্ট

ডিআইবি, ঢাকা

২৯৬

ঢাকাস্থ আইবিইবির ডিআইজি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টকে একটি গোপন ম্যামো প্রেরণ করেন যাতে তিনি শেখ হাবিবুর রহমানের করা ৩০/৯/১৯৫০ তারিখের আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি প্রেরণ করেন।

ঢাকা, ৫ই অক্টোবর ১৯৫০

গোয়েন্দা বিভাগ, পূর্ববঙ্গ

৭, ওয়াইজঘাট রোড

ঢাকা, ১৯৫০

নং ১৯১৫৯/৬০৬-৪৮ পিএফ (সেক), তারিখ ৫/ক/৫০

গোপনীয়

বরাবর

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা

শেখ হাবিবুর রহমানের ৩০/৯/৫০ তারিখের একটি আবেদনের অনুলিপি এতদ্‌সঙ্গে প্রেরণ করে আমার নিবেদন এই যে, সাক্ষাতের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে একজন আইবি অফিসারের উপস্হিতিতে আপনি সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে পারেন।

সাক্ষাৎপ্রার্থী দলকে সেভাবে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৫/১০

গোয়েন্দা শাখার

উপমহাপরিদর্শকের পক্ষে

২৯৭

শেখ হাবিবুর রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট এই মর্মে অবহিত করেন যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ৭/১০/১৯৫০ তারিখে তাঁর দেখা করার অনুমতি মিলেছে।

ঢাকা, ৬ই অক্টোবর ১৯৫০

পূর্ববঙ্গ সরকার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের অফিস

ম্যামো নং ১৫৮০/ডিবি। তারিখ ৬/১০/৫০।

বরাবর,

জনাব শেখ হাবিবুর রহমান  ও গং

আপনাকে এতদ্বারা অনুমতি প্রদান করা যাচ্ছে যে, এই চিঠিটি এই অফিসে প্রদর্শনপূর্বক ৭/১০/৫০ তারিখে সকাল ১১টায় আপনি নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- এ. এইচ. খান

সুপার ইনটেনডেন্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/১০

ম্যামো নং ১৫১৮/এসবি, তারিখ ৬/১০/৫০

এই ম্যামোর নং ১৯১৫৯-৬০৬-৪৮ পিএফ (সেক) তারিখ ৫/১০/৫০-এর বরাত দিয়ে অনুমিত সাক্ষাতের সময়ে আইবির একজন অফিসারকে নিযুক্ত করতে ঢাকাস্থ আইবি পুলিশের ডিআইজিকে একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/-

সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

পার্শ্বটীকা: ডিএস ৬, আগামীকাল সকাল ১১টায় সাক্ষাতের সময়ে একজন অফিসারকে অনুগ্রহপূর্বক নিয়োগ করা যেতে পারে। তারিখসহ স্বাক্ষর/- ৬/ক

এসআই বি. আলম. সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকবেন।

২৯৯

শেখ হাবিবুর রহমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট বরাবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন যেখানে তিনি বলেন যে, জেল অফিস থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে যে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার তাঁকে দেখতে কারাগারের নিকটে প্রায় চলে এসেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ তিনি (শেখ হাবিবুর রহমান) যেন ১১/১০/১৯৫০ তারিখে তাঁর সাথে দেখা করতে পারেন তার অনুরোধ করেন তিনি।

ঢাকা, ৯ই অক্টোবর ১৯৫০

বরাবর,

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট

ঢাকা।

মহোদয়,

আপনার ৬/১০/৫০ তারিখের ম্যামো নং ১৫৮০/এসবির বরাত দিয়ে আমার নিবেদন এই যে, আমি অবগত হয়েছি যে, নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার তাঁকে দেখতে কারাগারের প্রায় সন্নিকটে চলে এসেছে।

অতএব মহোদয়ের নিকট আমার আকুল আবেদন এই যে, তাঁর সাথে এই মাসের ১১তারিখ সকাল ৯টায় সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করলে বাধিত থাকব। সাক্ষাতের সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সাথে আমি থাকলে তাঁরা না করবেন না। আশা করছি আপনি বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় ও অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখবেন। তাহলে আপনার প্রতি অত্যন্ত বাধিত থাকব।

ধন্যবাদান্তে

আপনার বিশ্বস্ত

শেখ হাবিবুর রহমান

পার্শ্বটীকা: ম্যামো নং ১৫৮৮/এসবি, তারিখ ৯/১০/৫০

অবহিতকরণের জন্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসবির ডিআইজিকে প্রেরণ করা হয়েছে।

তারিখসহ স্বাক্ষর/- সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

তারিখ, পূর্ব পাকিস্তান প্রোভিনশিয়াল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড

৬ই সেপ্টেম্বর ‘৫০।

৩০০

শেখ হাবিবুর রহমান ঢাকাস্থ আইবির ডিআইজিকে একটি আবেদনপত্র পাঠিয়ে অনুরোধ করেন যে, ৭/১০/১৯৫০ তারিখে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে তিনি যে আবেদন করেছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্টের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর তিনি পাননি। তাঁর আবেদনটি গৃহীত হয়নি। তাঁর (শেখ হাবিবুর রহমান) ও শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারবর্গ মিলে নিরাপত্তা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে তিনি আবার আইবির ডিআইজির প্রতি আবেদন করেন।

ঢাকা, ১১ই অক্টোবর ১৯৫০

বরাবর,

ডিআইজি

আইবি, ওয়াইজঘাট, ঢাকা

ঢাকা, ১১ই অক্টোবর ১৯৫০

মহোদয়,

৬/১০/৫০ তারিখের পত্র নং ১৫৮০ যে পত্রটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার ইনটেনডেন্ট ৭ই অক্টোবর ১৯৫০ তারিখের সাক্ষাতের বিষয়ে আমাকে লিখেছিলেন তার বরাত দিয়ে বিনীত নিবেদন এই যে, ১১ই অক্টোবর ১৯৫০ তারিখ সাক্ষাতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করতে সুপার ইনটেনডেন্ট মহোদয়কে আমি লিখেছিলাম। কিন্তু আমার কপালপোড়া। তাঁর কাছ থেকে কোনো উত্তর পেলাম না।

অতএব জনাব নিকট অনুরোধ, আগামী ১৪ই অক্টোবর ১৯৫০ তারিখ রোজ শনিবার সাক্ষাতের সময় নির্ধারণপূর্বক আমার পরিবারের নিম্নলিখিত সদস্য ও শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যসহ সাক্ষাতের অনুমতি প্রদান করতে জনাবের যেন আজ্ঞা হয়। কারণ সামনের পূজার ছুটিতে আমার পরিবার নিয়ে আমি বাড়ি যাব।

  1. আছিয়া বেগম ও তাঁর সন্তানরা
  2. আমার স্ত্রী, কন্যা ও মাজহারুল হক

আপনার একান্ত বাধ্যগত

শেখ হাবিবুর রহমান

পূর্ব পাকিস্তান প্রোভিনশিয়ালকো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা